জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা কোনো লুটেরা বা চাঁদাবাজের জন্য রক্ত দেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘জনগণ কোনোভাবেই লুটতরাজ, চাঁদাবাজি ও অন্যায়-অবিচার মেনে নেবে না। আগামীতে প্রত্যেকটি অপরাধের হিসাব দিতে হবে। মানুষের ওপর জুলুম করা, মানুষের অধিকার হরণ করা এবং অন্যের হক মেরে দেওয়ার জবাবদিহি করতে হবে।’
আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরী আয়োজিত ছাত্র ইসলামী আন্দোলনের প্রাক্তন সাথী-সদস্য সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘গত ১৭ বছরে আমাদের ওপর ভিন্ন মাত্রার জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছে। শীর্ষস্থানীয় ১২ জন নেতাকে শতাব্দীর নিকৃষ্ট অপবাদ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অথচ তারা এক আল্লাহর ওপর অবিচল ঈমান রেখেছিলেন এবং একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন বুকে ধারণ করেছিলেন। বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাস করে, জামায়াতে ইসলামী মানুষের আমানত রক্ষা করবে।’
অতীতের ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অতীতের বিভিন্ন ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। সাবেক একজন বিচারপতি পালিয়ে সীমান্ত থেকে কলাপাতার ওপর থাকা অবস্থায় আটক হওয়ার মতো ঘটনাও আমাদের শিক্ষা দেয়। মানুষের ওপর জুলুম করা, মানুষের অধিকার হরণ করা এবং অন্যের হক নষ্ট করার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এমন কিছু বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, যেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অবান্তর। এসব কথার জবাব দেওয়ার ন্যূনতম সময় আমাদের নেই। কথার প্রতিযোগিতায় না গিয়ে আদর্শ, নৈতিকতা ও কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।’
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে বাংলাদেশের কয়েকটি জেলার মধ্যে চট্টগ্রাম বীরদর্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ইসলামী আন্দোলন দুনিয়াবি কোনো স্বার্থ বা ব্যক্তিগত প্রাপ্তির জন্য নয়; বরং আদর্শিক বিশ্বাস ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যেই এই আন্দোলন পরিচালিত হয়।’
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, ‘আমাদের সবার মধ্যে ঈমানের সেই ফুলকি এখনো জাগ্রত রয়েছে। এই সম্মেলন কেবল একটি মিলনমেলা নয়; বরং দেশের প্রয়োজনে ও জাতির সংকটময় মুহূর্তে ঐক্যবদ্ধভাবে অগ্রণী ভূমিকা পালনের প্রত্যয়।’
দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘দেশের মানুষ একটি আদর্শিক পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা করছে। এই পরিবর্তন ছাড়া দেশের প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। জনগণের প্রত্যাশাকে ধারণ করে ন্যায়বিচার, সততা ও জনকল্যাণের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।’
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল (এমপি) বলেন, ‘ছাত্রজীবনে সংগঠন থেকে অর্জিত নীতি-নৈতিকতা, আদর্শ ও প্রশিক্ষণের শিক্ষা পুরো জীবন কাজে লাগাতে হবে। ছাত্রশিবির নেতৃত্ব তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারখানা।’
ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘ক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে দলাদলি কাম্য নয়। দেশের নেতৃত্ব যদি জামায়াতে ইসলামীর হাতে না আসে, তাহলে বাংলাদেশ থেকে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও রাহাজানি কখনো বন্ধ হবে না।’
ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ‘বাংলাদেশ একদিন ইনসাফ ও কল্যাণের রাষ্ট্রে পরিণত হবে, ইনশাআল্লাহ। আমরা সেই বাংলাদেশ দেখে যেতে চাই। এ লক্ষ্য অর্জনে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম করতে ছাত্রশিবির প্রস্তুত রয়েছে।’
