রংপুর সিটি করপোরেশনের উন্নয়নে একনেকের সভায় ১ হাজার ৮১২ কোটি টাকার বরাদ্দ অনুমোদন হয়েছে। এ অর্থে নেওয়া প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে শতভাগ জবাবদিহি নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন।
তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম করার সুযোগ নেই। প্রকল্প বাস্তবায়নের শতভাগ জবাবদিহি নিশ্চিত করব।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর টাউনহল মাঠে আয়োজিত কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে নগরীর নানা শ্রেণিপেশার মানুষ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
মাহফুজ উন নবী ডন বলেন, প্রকল্পগুলো দ্রুত শুরু করে নির্ধারিত সময়ে শেষ করা হবে। কাজের মান নিশ্চিত করা হবে, কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। দরপত্র থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত স্বচ্ছতা বজায় থাকবে। প্রকল্পের অগ্রগতি জনসমক্ষে প্রকাশ ও অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থাও থাকবে। বর্ধিত ওয়ার্ডগুলোর উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেব।
তিনি আরও বলেন, এত বড় বরাদ্দ কোনো ব্যক্তির কৃতিত্ব নয়। এটি উন্নয়নবঞ্চিত ও অবহেলিত রংপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন। উন্নয়নবঞ্চনার অতীত পেছনে ফেলে উত্তরাঞ্চল তথা রংপুর বিভাগ এখন উন্নয়নের মূলধারায় গুরুত্ব পাচ্ছে। সরকার সারা দেশে সুষম উন্নয়নে বিশ্বাসী, শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক উন্নয়নে নয়।
বরাদ্দ অনুমোদনের জন্য রংপুরের মানুষের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিএনপি সরকার, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও একনেকের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান প্রশাসক। এ বরাদ্দে যোগাযোগ ও অবকাঠামো, পানি ও পরিবেশ, নাগরিক সুবিধা এবং ভবিষ্যৎমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে রংপুরকে তিলোত্তমা নগরী গড়ে তোলার অঙ্গীকারও করেন তিনি।
উন্নয়নকাজ চলার সময় সাময়িক ভোগান্তিতে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন প্রশাসক। সড়ক, ফুটপাত ও ড্রেন দখলমুক্ত, যত্রতত্র ময়লা না ফেলা এবং কাজের মান নিয়ে কোনো সমস্যা চোখে পড়লে কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানান মাহফুজ উন নবী ডন। রাজনীতিবিদদের দল-মতের ভিন্নতা থাকলেও রংপুরের উন্নয়নে একযোগে কাজ করার আহ্বান তার।
রসিক প্রশাসক বলেন, এ বরাদ্দকে তিনি শেষ নয়, শুরু হিসেবে দেখছেন। ভবিষ্যতে আরও উন্নয়ন প্রকল্প আনার আশা প্রকাশ করে তিনি নগরবাসীর দোয়া, সমর্থন ও অংশগ্রহণ কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কাওসার জামান বাবলা, জেলা যুবদল সভাপতি নাজমুল আলম নাজু, মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর আরজানা সালেক, ড্যাবের মহানগর কমিটির সভাপতি ডা. নিখিলেন্দ্র শঙ্কর গুহ রায়, মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহির আলম নয়ন ও সদস্যসচিব আতিকুল ইসলাম লেলিন। এ ছাড়া বিএনপি, যুবদল,ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন।
