অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত অতিপ্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও পানীয়র মোড়কের সামনে সতর্কবার্তা বা ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) ভোক্তাদের স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিতে সহায়তা করে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে সরকারের চলমান প্রক্রিয়াকে সহায়তা ও জনসমর্থন প্রদানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একটি মাসমিডিয়া ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া সভাকক্ষে এই ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস-সম্পর্কিত অসংক্রামক রোগের (এনসিডি) ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে এই প্রচারণা কর্মসূচিটি হাতে নেওয়া হয়েছে। যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান), ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্ট, কোয়ালিশন ফর হেলদি ফুড এবং সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স (সিএলপিএ)।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ভিডিও ও অডিও বিজ্ঞাপন, স্থিরচিত্র (স্ট্যাটিক ইমেজ) এবং জনসচেতনতামূলক অন্যান্য উপকরণের সাহায্যে টেলিভিশন, রেডিও, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন ও মুদ্রিত সংবাদপত্র এবং গুগল বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে দুই মাসব্যাপী এই প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এগুলো প্রচার করা হবে। এই প্রচারণা কর্মসূচির লক্ষ্য হলো সাধারণভাবে ব্যবহৃত প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যে থাকা অস্বাস্থ্যকর উপাদান এবং অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটের প্রতি জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। এ ছাড়া বাংলাদেশে প্যাকেটজাত খাদ্য ও পানীয়তে ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ সতর্কতামূলক লেবেল (এফওপিএল) প্রদানসংক্রান্ত প্রবিধানমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সরকারকে সহায়তা করাও এই প্রচারণার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশের জন্য অসংক্রামক রোগ দায়ী, যার মধ্যে হৃদরোগ এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস অন্যতম প্রধান কারণ। এ ছাড়া বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে অতিরিক্ত ওজনের হার প্রায় ৩১.৮ শতাংশ এবং ১৩.৪ শতাংশ মানুষ স্থূলতায় (ওবেসিটি) আক্রান্ত। অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং স্ট্রোকসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যের মোড়কের সামনের অংশে থাকা সতর্কতামূলক লেবেল (এফওপিএল) খাবার বা পানীয়তে অতিরিক্ত পরিমাণে চিনি, লবণ এবং সম্পৃক্ত চর্বি (স্যাচুরেটেড ফ্যাট) রয়েছে কি না, তা দ্রুত শনাক্ত করতে ভোক্তাদের সাহায্য করে। পুষ্টিসংক্রান্ত তথ্যকে স্পষ্ট ও সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে এই লেবেল মানুষকে সচেতন ও তথ্যভিত্তিক খাদ্য নির্বাচনে সহায়তা করে এবং অস্বাস্থ্যকর পণ্য কেনা থেকে বিরত রাখে। খাদ্যপরিবেশ উন্নত করা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস-সম্পর্কিত রোগের বোঝা কমানোর ক্ষেত্রে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রমাণভিত্তিক নীতি হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।
প্রচারণা কর্মসূচিটি উদ্বোধন করে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত অস্বাস্থ্যকর মোড়কজাত খাদ্য ও পানীয় সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে মোড়কের সামনে সতর্কবার্তা (এফওপিএল) সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রবিধানমালা প্রণয়নে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (খাদ্য শিল্প ও উৎপাদন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব এবং গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস।
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিভাগের পরিচালক ইকবাল মাসুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক সাইফুদ্দিন আহমেদ, প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের, সিএলপিএর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম প্রমুখ।
