ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান তারেক রহমানের
পরিবেশ ও বন রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরেও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের পরিবেশ রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বৃহস্পতিবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নবিষয়ক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের পরিবেশের উন্নতি করতে হলে প্রত্যেককে নিজের নির্ধারিত দায়িত্বের পাশাপাশি বাড়তি কিছু করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। পরিবর্তন আনতে হলে যার যার সক্ষমতা অনুযায়ী উদ্যোগ নিতে হবে।
সভায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের মাদার ট্রি বা মাতৃগাছ চিহ্নিত করে সেগুলো সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণের পর চারার পরিচর্যা নিশ্চিত করা এবং লাগানো গাছগুলো বেঁচে আছে কি না, তা নিজস্ব লোক পাঠিয়ে পর্যবেক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বনায়ন বাড়ানোর উপায় নির্ধারণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের প্রকৃতির সান্নিধ্যে যাওয়ার মতো জায়গা দেশে পর্যাপ্ত নয়। এ ধরনের স্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি ছাদবাগান, স্কুলবাগানসহ বিভিন্ন ভবনে বাগান গড়ে তুলতে মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে।
পরিবেশ রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, মানুষ যত বেশি সচেতন হবে, পরিবেশ রক্ষার কার্যক্রম বাস্তবায়ন তত সহজ হবে। এ জন্য পরিবেশ ও বন রক্ষায় নেওয়া সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের পৃথক পরিকল্পনা রাখার নির্দেশ দেন তিনি।
ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় প্রথম বা দ্বিতীয় অবস্থানে থাকছে। এটি দেশের জন্য লজ্জার বিষয়। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনার যেটা ডিউটি, তার থেকে একটু বেশি কাজ করার সক্ষমতা আপনার রয়েছে।’
তিনি বলেন, দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ সবার জীবনে আসে না। বর্তমানে যারা দায়িত্বশীল পদে রয়েছেন, তাদের সামনে দেশের মানুষের জন্য আরও কিছু করার সুযোগ রয়েছে। শুধু নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করে থেমে না থেকে জনকল্যাণে বাড়তি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আল্লাহতাআলা আমাদের একটা সুযোগ দিয়েছেন এই দেশের জন্য, এই দেশের মানুষের জন্য কিছুটা করার। আপনি নয়টা-পাঁচটা অফিস করতেই পারেন। এরপরে যদি আপনি কিছু না করেন, কেউ কিছু বলবে না। কিন্তু পরিবেশটা যদি খারাপ হয়ে যায়, ভবিষৎ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, আপনার পরবর্তী প্রজন্ম তো দেশেই থাকবে।’
দেশব্যাপী ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, পরিকল্পনাটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের সব মানুষ এর সুফল পাবে। সম্মিলিতভাবে কাজ করলে দেশের মানুষের কল্যাণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, অন্য মন্ত্রণালয়গুলো নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম গাছ লাগালে সেই ঘাটতি পূরণে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে রোপণ করা গাছের নিয়মিত পরিচর্যা ও তদারকি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের সুফল দীর্ঘমেয়াদে পাওয়া যায়।
সভায় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানমসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
