ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের (এনইসি) সভাপতি শফিক রেহমান ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সরকারি বিজ্ঞাপনের মূল্যহার ২২ শতাংশের পরিবর্তে ১০০ শতাংশ বাড়িয়ে পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন; তাঁদের মতে, বর্তমান মূল্যবৃদ্ধি সংবাদপত্রশিল্পের ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের তুলনায় অপ্রতুল।
সরকারি বিজ্ঞাপনের মূল্যবৃদ্ধি করে সম্প্রতি জারি করা পরিপত্রকে অপ্রতুল ও অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়ে বিজ্ঞাপনের মূল্যহার পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি)।
সংগঠনটির সভাপতি ও যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান এবং সাধারণ সম্পাদক ও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) এক যুক্ত বিবৃতিতে এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের পত্রপত্রিকায় প্রদেয় সরকারি বিজ্ঞাপনের মূল্যহার পুনর্নির্ধারণ করে একটি পরিপত্র জারি করেছে। এর আগে সরকারি বিজ্ঞাপনের যে মূল্যহার কার্যকর ছিল, তা সাত বছর আগে, অর্থাৎ ২০১৯ সালের অক্টোবরে নির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে ওই মূল্যহার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছিল ২০০৬ সালে, যা প্রস্তাবনার ১৩ বছর পর ২০১৯ সালে বাস্তবায়িত হয়। এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও বিজ্ঞাপনের মূল্যহার আর সমন্বয় করা হয়নি। এ সময়ে প্রকাশনাশিল্পের ব্যয় কয়েক গুণ বেড়েছে এবং কয়েক দফায় সরকারি চাকরিজীবীদের পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিউজপ্রিন্ট, কালি ও অন্যান্য প্রকাশনাসামগ্রীর দাম দফায় দফায় বাড়লেও প্রয়োজনের তুলনায় সরকারি বিজ্ঞাপনের মূল্যহার বাড়েনি। এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তৎকালীন তথ্য উপদেষ্টার সঙ্গে সাংবাদিক সংগঠনের নেতা, সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের কয়েক দফা বৈঠক হয়। এসব বৈঠকে সংবাদপত্রশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে সরকারি বিজ্ঞাপনের সর্বনিম্ন মূল্যহার প্রতি কলাম ইঞ্চি ৯০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল্যহার ৩ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ১৩ অক্টোবর বিজ্ঞাপনের মূল্যহার নির্ধারণ করে জারি করা পরিপত্রে প্রস্তাবের তুলনায় অনেক কম মূল্যহার নির্ধারণ করা হয়েছে।
এনইসি মনে করে, পত্রিকার শ্রেণিভেদে বিজ্ঞাপনের মূল্যহার ২২ থেকে ২৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব মোটেই বাস্তবসম্মত নয়। এতে সংবাদপত্রশিল্পের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। বর্তমান ব্যয় বিবেচনায় সরকারি বিজ্ঞাপনের মূল্যহার ২২ শতাংশের পরিবর্তে ১০০ শতাংশ বাড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে আরও প্রস্তাব করা হয়, রঙিন বিজ্ঞাপন এবং পত্রিকার প্রথম ও শেষ পৃষ্ঠায় বিজ্ঞাপন প্রকাশের ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রযোজ্য অতিরিক্ত মূল্যহার বাড়ানো সম্ভব না হলেও যেন তা অপরিবর্তিত রাখা হয়।
