ইসরাইলের নির্বাচনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স । তিনি বলেছেন, ইসরাইলের নির্বাচনে জড়াতে চান না তিনি। বরং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিতে চান। চলতি মাসে ইসরাইলে পার্লামেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।
সাংবাদিক মার্ক হালপেরিনকে সোমবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন ভ্যান্স। যদিও এর ঠিক একদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন।
বিজ্ঞাপন
ভ্যান্স বলেন, ‘আমি তার বিরোধিতা করছি না, আবার সমর্থনও করছি না। ইসরাইলের নির্বাচনে আমি জড়াতে চাই না।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রার্থীদের সমর্থন জানাই। আর আমার মনোযোগ এখন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে।’
সর্বশেষ গত এপ্রিলে অন্য একটি দেশের নেতার প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন ভ্যান্স। সে সময় তিনি হাঙ্গেরির সাবেক ডানপন্থি প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের পক্ষে অবস্থান নেন। তবে নির্বাচনে পিটার মাগিয়ারের কাছে ভূমিধস পরাজয়ের মুখে পড়েন অরবান।
ট্রাম্প তার দুই মেয়াদেই নেতানিয়াহু ও তার ডানপন্থি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।
প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুজালেমের পশ্চিমাংশে স্থানান্তর করেন। এছাড়া গোলান মালভূমিতে ইসরাইলের সংযুক্তিকরণকে স্বীকৃতি দেন, ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন এবং আরব দেশগুলোর সঙ্গে একাধিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তিতে নেতৃত্ব দেন। এসব উদ্যোগে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংকটের বিষয়টি অনেকটাই আড়ালে পড়ে যায়।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পরও ট্রাম্প প্রশাসন গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ চলাকালে দেশটিতে অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে চাপ বাড়িয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত ভ্যান্স রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে ইসরাইলের প্রতি ওয়াশিংটনের নিঃশর্ত সমর্থন নিয়ে বাড়তে থাকা অসন্তোষের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের প্রভাবে মার্কিন ভোক্তাদের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এ অসন্তোষ আরো গভীর হয়েছে।
ভ্যান্স অবশ্য ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে ইসরাইলের সঙ্গে জোটের প্রতি তার অঙ্গীকার নিয়ে রিপাবলিকান পার্টির ইহুদি নেতাদের একাংশের মধ্যে সংশয় রয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
আরএ
