পদত্যাগের প্রশ্ন হেসে উড়িয়ে দিলেন ইনফান্তিনো
চ্যানেল আই অনলাইনপ্রকাশ:
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রি পরিকল্পনা নিয়ে জলঘোলা কম হয়নি। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে পদত্যাগের দাবী তোলা হয়েছিল। প্রাতিষ্ঠানিক অস্থিরতার মাঝেও সে আহ্বানকে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইনফান্তিনো। তার দাবি, বিশ্বফুটবল সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ এখনও তার পক্ষে রয়েছে।
দুই মাস আগে ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ'(এফএফই) উদ্যোগকে কেন্দ্র করে উয়েফা, কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) কাছ থেকে কড়া সমালোচনার মুখে পড়েন ইনফান্তিনো। বেসরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের কাছে ফিফার বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনাটি উপস্থাপনের পরেই বাতিল করা হয়। যা শীর্ষ ফুটবল সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
পরিকল্পনাটি বাতিলের পর উয়েফা আগামী ২ নভেম্বরের মধ্যে এফএফই সম্পর্কিত সমস্ত নথিপত্র প্রকাশের সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে নথিপত্র প্রকাশ না করলে তাকে দায়িত্বের জন্য অযোগ্য হিসেবে গণ্য করার হুমকি দেয়।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন হেসে উড়িয়ে দেন ফিফা সভাপতি। বলেছেন, ‘আমি সারা বিশ্বের ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। ফিফার মতো একটি সংস্থায় বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি বা ভিন্নমত থাকতেই পারে, এটি স্বাভাবিক। কিন্তু আমরা যদি গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আন্তরিক হই, যদি বিশ্বাস করি যে সারা বিশ্বের সবার সমান ভোট ও কণ্ঠস্বর রয়েছে এবং ফুটবল সবার, তবে আমাদের অবশ্যই বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামতকে সম্মান জানাতে হবে।’
আজারবাইজানে অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ চলাকালীন প্রশাসনিক কিছু ত্রুটির কথা মেনে নিয়ে তিনি জানান, তার প্রশাসন সাধ্যমতো সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতে মরক্কো, কেপ ভার্দে, জাপান ও ডোমিনিকান রিপাবলিকসহ বিভিন্ন দেশ সফর করেন ইনফান্তিনো। বিশেষ করে, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি শেখ সালমান অবস্থান পরিবর্তন করে তাকে সমর্থন জানিয়েছেন।
ফিফা সভাপতি বলেন, ‘আমি এইমাত্র টোকিও থেকে ফিরে এলাম, যেখানে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন আমাকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। আমি কেপ ভার্দেতেও গিয়েছিলাম, সেখানে আফ্রিকার সব দেশ আমাকে সমর্থন জানিয়েছে। আমি বিশ্বের সব ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গেই কথা বলছি।’
‘ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকাটা স্বাভাবিক, সবাইকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসা সবসময় সহজ নয়। তবে আমাদের একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে, আমি নিজেও সব মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গিকে শ্রদ্ধা করি। এখন ফিফার সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোই সিদ্ধান্ত নেবে, তারা কাকে সভাপতি হিসেবে দেখতে চায় এবং কীভাবে ফিফা পরিচালিত হবে।’-যোগ করেন ফিফা সভাপতি।
উয়েফার দাবি করা বিতর্কিত এফএফই নথিপত্র প্রকাশের প্রশ্নের জবাবে ইনফান্তিনো বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে এবং আমাদের সাধ্য অনুযায়ী, সব প্রশ্নের উত্তর অবশ্যই দেওয়া হবে।’
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
