এশীয় উপমহাদেশের যে কোনও টিমের কাছেই নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন বেশ চ্যালেঞ্জিং। তার মধ্যে আবার ভারতীয় দল সেভাবে প্রস্তুতির সময় পায়নি। টানা ঘরোয়া সিরিজ। জাপানে এশিয়ান গেমস। তার মধ্যে আবার দীর্ঘ জেটল্যাগের ধাক্কা তো রয়েছে। তবে এসব নিয়ে ভারতীয় শিবির একেবারেই ভাবছে না। অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, এই প্রথম তাদের ব্যস্ত সূচির মধ্যে পড়তে হয়নি। এর আগেও ভারতীয় দল টানা ক্রিকেট খেলেছে। লম্বা ট্রাভেলও করেছে। ফলে কোনও অজুহাত তাঁরা দিতে চান না।
ক্রাইস্টচার্চে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নামার আগে বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে এসেছিলেন ভারতীয় অধিনায়ক। শ্রেয়স বলেন, “আগেও এরকম হয়েছে। আমাদের ট্রাভেল করতে হয়েছে। তাছাড়া নতুন পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার মধ্যে একটা আনন্দও রয়েছে। আমরা সেটাকে চ্যালেঞ্জ হিসাবেই দেখছি। কোনওরকম অজুহাত দিতে চাই না। বরং সিরিজ কীভাবে জিতব, সেটা নিয়েই ভাবনা-চিন্তা করছি।”
পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য দিন কয়েক প্রস্তুতির সুযোগ পেয়েছে টিম ইন্ডিয়া। এদিন যেমন প্র্যাকটিস দেখা যায়, অভিষেক শর্মার সঙ্গে বেশ খানিকক্ষণ কথা বলছেন ভারতীয় কোচ গৌতম গম্ভীর। হয়তো বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে কী করতে হবে। প্রথম একাদশ মোটামুটি ঠিক হয়ে গিয়েছে। ওপেনিং স্লটে কোনও বদল আসছে না। সঞ্জ স্যামসনের সঙ্গে অভিষেক। অর্থাৎ বৈভব এখনই প্রথম একাদশে আসছেন না। বরুণ চক্রবর্তী ফিরেছেন। তবে তাঁকে প্রথম এগারোয় রাখা হবে কি না, সেটা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ম্যাচের দিন উইকেট দেখার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। এমনিতে ঠিক আছে, স্পিনার অলরাউন্ডার হিসাবে অক্ষর প্যাটেল খেলবেন। দ্বিতীয় স্পিনার খেলানো হলে বরুণ আসবেন। না হলে প্রিন্স যাদবকে খেলানো হতে পারে।
তবে ক্রাইস্টচার্চে সবার নজর থাকবে ভুবনেশ্বর কুমারের দিকে। চার বছর পর জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন এই সিরিজ ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে ভারতীয় পেসারের কাছে। যদি পারফরম্যান্স ভালো হয়, তাহলে হয়তো ফের নিয়মিত দলে চলে আসবেন। তাছাড়া নিউজিল্যান্ডের যা কন্ডিশন, সেটা ভুবনেশ্বরের কাছে বাড়তি সুবিধের। ওই কন্ডিশন পেসাররা বাড়তি সুইং পায়। নিউজিল্যান্ড টিমের তরফে সেটা বলাও হল। ভুবনেশ্বর নিয়ে নিউজিল্যান্ড বেশ সতর্ক। কিউয়ি অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার বলছিলেন, “এখানকার কন্ডিশনে বোলিং করতে ভুবনেশ্বর সবসময় ভালোবাসে। আর উইকেট থেকে পেসাররা যদি সামান্যটুকুও সাহায্য পায়, তাহলে ও কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, সেটা আমাদের খুব ভালো করে জানা রয়েছে।”
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে ভারতীয় বোলিং নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। বিশেষ করে পেসারদের নিয়ে। তবে ভুবনেশ্বর চলে আসায়, ভারতীয় পেস শক্তি যে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে, সেটা বলে দেওয়াই যায়।
