ছবির ক্যাপশন: .
এনামুল হক আরিফ, বিশেষ প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক ও অপরাধ দমনে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে জেলা পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সদর মডেল থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে ২২ মামলার রেকর্ডধারী কুখ্যাত মাদক কারবারি পিয়াস মিয়াসহ তার সহযোগী ভাই সোহাগ মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) রাতে পৌর এলাকার কান্দিপাড়া এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা হয়।পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এই দুই ভাই মাদক ব্যবসা, চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ও মামলার তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়। পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান,পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত প্রায় ৮টা ২০ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ টিম কান্দিপাড়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের সময় সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে পিয়াস ও সোহাগকে আটক করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে মাদক কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।পুলিশের দাবি, গ্রেফতারকৃত দুই ভাই দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক সরবরাহ ও অপরাধী চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ে একাধিক অভিযোগও ছিল।পিয়াসের বিরুদ্ধে ২২ মামলার ভয়ঙ্কর রেকর্ড,গ্রেফতারকৃত পিয়াস মিয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের নথি অনুযায়ী মোট ২২টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি মাদক মামলা, ৩টি ডাকাতির প্রস্তুতি মামলা এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তিনি দীর্ঘদিন ধরে একজন চিহ্নিত অপরাধী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।অন্যদিকে তার ভাই সোহাগ মিয়ার বিরুদ্ধেও রয়েছে ৫টি মামলা। এর মধ্যে ১টি মাদক মামলা, ১টি ডাকাতির প্রস্তুতি মামলা এবং ৩টি চুরির মামলা রয়েছে। পুলিশ বলছে, দুই ভাই একসঙ্গে অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন এবং বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছেন।অপরাধ দমনে পুলিশের কঠোর অবস্থান।গ্রেফতারের পর তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে সদর মডেল থানা পুলিশ।
জেলা পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে মাদক ও অপরাধমুক্ত করতে চলমান বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হবে। মাদক ব্যবসায়ী, চোর, ছিনতাইকারী কিংবা সংঘবদ্ধ অপরাধী—কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। অপরাধী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।মাদকমুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া গড়ার প্রত্যয়,জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রগুলোকে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের এই ধারাবাহিক অভিযানে ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় বহু মাদক কারবারি গ্রেফতার হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত ও নিরাপদ জেলা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এমন বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও কঠোরতা বজায় রেখে কাজ করে যাচ্ছে
