মমতাপন্থী তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে হানা দিয়ে ৪ তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। হিংসা, তোলাবাজি, ভাঙচুর সহ একাধিক অভিযোগ শুক্রবার ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশরাম দাসের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। কিন্তু বিধায়ককে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তাঁর সঙ্গে ফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। যদিও রাতেই বিধায়কের বাড়ি থেকে তৃণমূলের প্রধান-সহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আজ, শনিবার ধৃতদের আলিপুর আদালতে তোলা হবে। প্রশ্ন উঠছে, পুলিশের ভয়ে কি তবে গা ঢাকা দিয়েছেন বিধায়ক ?
ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন দিঘিরপাড় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান শিলাদিত্য রায়। বাকি ৩ জনও তৃণমূলের স্থানীয় নেতা। তাঁদের বিরুদ্ধে ভোট পরবর্তী হিংসা, মারধর, তোলাবাজি ও ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে। বিধায়ক পরেশরাম দাসের বিরুদ্ধে এই সব অভিযোগ আছে। সেই সব অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার বারুইপুর জেলা পুলিশ ও ক্যানিং থানার পুলিশ যৌথভাবে তাঁর বাড়িতে হানা দেয়। বাড়ি ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। কিন্তু বাড়িতে পাওয়া যায়নি বিধায়ককে। একাধিকবার তাঁকে ফোন করা হলেও কোন ভাবেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। বিধায়ককে না পেয়ে তাঁর ৪ অনুগামীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিধায়ক পরেশরাম দাসের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময়ে বিরোধীদের উপর হামলা, বোমাবাজির অভিযোগ উঠেছিল। বিরোধীদের নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল পরেশরাম দাসের বিরুদ্ধে। এর মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সামনে আসায় গোটা বিষয়টি নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। অভিযোগের ভিত্তিতে গত মাসে ভবানীভবনে হাজিরাও দেন তৃণমূল বিধায়ক। গ্রেপ্তারি এড়াতে দু’বার আলিপুর আদালতে জামিনের আবেদন জানালেও তা খারিজ হয়ে যায়। এবার পুজো মিটতেই বিধায়কের বাড়িতে পৌঁছে গেল বিরাট পুলিশ বাহিনী। সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। কিন্তু গোটা চত্বরে তৃণমূল বিধায়কের খোঁজ পায়নি পুলিশ। তবে কি গ্রেপ্তারির ভয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন ক্যানিং পশ্চিমের পরেশরাম? শনিবার দুপুর পর্যন্তও তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি।
