Published on
:
2 min read
ফ্রান্সে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে হিংসার আগুন। দেশ জুড়ে অবাধে চলছে লুটপাট, ভাঙচুর। একের পর এক সরকারি প্রতিষ্ঠানে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের একাধিক শহরে আংশিক কার্ফু জারি করলেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরে স্থানীয় প্রশাসনকে এই সংক্রান্ত নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে হিংসার পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশের ব্যর্থতার কথাও স্বীকার করে নিয়েছে লেকর্নু সরকার।
সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ আন্দোলন শুরু করেছিলেন প্যারিসের স্কুলছাত্ররা। তাঁদের দাবি ছিল, অবিলম্বে স্কুল-কলেজে উন্নত পরিকাঠামোর ব্যবস্থা করুক সরকার। ধীরে ধীরে সেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে প্রায় গোটা দেশে। তার পর থেকেই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নিতে শুরু করে। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের দাবি, এর নেপথ্যে রয়েছে কমিউনিস্ট এবং অভিবাসী মুসলিমরা। তারাই ছাত্র বিক্ষোভ ‘হাইজ্যাক’ করে হিংসা ছড়াচ্ছে।
গত শনিবার থেকে প্যারিস, মার্সেই ও লিয়ঁর মতো বড় শহরগুলিতে জলের স্রোতের মতো আছড়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। শুরু হয় হিংসা, চলে অবাধ লুটপাট। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পরে এ দিন মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডাকেন লেকুর্ন। পরে তিনি জানান, বিভিন্ন শহরে পরিস্থিতি বুঝে আংশিক কার্ফু জারি করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের হাতেই বিষয়টা ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে জানিয়েছেন, প্যারিসের মতো একটা গোটা শহরে কার্ফু জারি করার পরিকল্পনা আপাতত নেই। তবে প্রয়োজনে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণার পথে সরকার হাঁটতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার আগে হিংসা আটকাতে পুলিশের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। তিনি বলেন, ‘শনিবার যে এত বড় বিক্ষোভ হতে পারে, তা আগে থেকে আঁচ করতে পারেনি প্রশাসন।’ কিছু এলাকায় হিংসা সামাল দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা যায়নি বলেও জানান তিনি। ঘটনার দায় নিয়ে এ দিন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কাছে পদত্যাগপত্রও জমা দিতে গিয়েছিলেন নুনেজ। তবে তা গ্রহণ করেননি প্রেসিডেন্ট।
লেকুর্ন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সজুড়ে প্রায় ৬০ হাজার পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। কিন্তু তার পরেও প্যারিস, মার্সেই ও লিয়ঁর মতো বড় শহরগুলিতে হিংসা আটকানো সম্ভব হয়নি। এই সংক্রান্ত কোনও গোয়েন্দা তথ্য ছিল না বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিনও। প্রশাসনের দাবি, দেশ জুড়ে এখনও পর্যন্ত প্রায় ২ হাজারের বেশি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২,৪০০ জনকে। ধৃতদের ৭০ শতাংশই প্রাপ্তবয়স্ক। হিংসায় প্রায় ১,০০০ পুলিশ জখম হয়েছেন বলে দাবি লেকুর্ন সরকারের।
এ দিকে সোমবার ক্ষোভের আগুন পৌঁছে যায় প্যারিসের বিখ্যাত লুভ্যর মিউজ়িয়ামে। জানা গিয়েছে, মিউজ়িয়ামের প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ দেখান একদল আন্দোলনকারী। একটি বড় ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে লেখা ছিল, ‘বিশ্বের বৃহত্তম মিউজ়িয়াম অবরোধ করতে পেরে আমরা গর্বিত।’ বর্তমানে ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে ফ্রান্সের অন্তত ৪০টি শহর। লিমোজেতে ১৪০ বছরেরও বেশি পুরোনো ঐতিহ্যশালী টাউন হলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল বিক্ষোভকারীরা। এখন আংশিক কার্ফু জারি করে পরিস্থিতি সামলানো যাবে নাকি শেষ পর্যন্ত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে হবে, সেই নিয়েই আলোচনা চলছে গোটা ফ্রান্সে।
