Published on
:
2 min read
সুদূর মেক্সিকোর মনোরম শহর কেরেতারো— কলকাতা থেকে হাজার হাজার মাইল দূরেও দুর্গাপুজোর আনন্দে মেতে উঠেছে বাঙালি। ২০২২ সালে ‘কেরেতারো সর্বজনীন’-এর হাত ধরে যে পুজোর সূচনা হয়েছিল, তা এ বার পা দিল পঞ্চম বর্ষে। বাঙালি এবং প্রবাসী ভারতীয়রা মিলে এই পুজোর আয়োজন করেছেন। উৎসব চলবে টানা দু’দিন। মেক্সিকান শিল্পী ও স্থানীয়দের মেলবন্ধন এক অনন্য রূপ নিয়েছে এই পুজো। মা দুর্গা এখানে সেজেছেন খাঁটি বাঙালি সাজে। পরনে লালপাড়-সাদা শাড়ি। আর মণ্ডপ সেজেছে কাশফুল, বাঁশের কুলো আর আলপনায়।
Ei Samay
বাঙালিদের এই উদ্যোগে স্থানীয় মেক্সিকান নাগরিক ও শিল্পীরাও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন। গত বছরের মতো চলতি বছরও দেবীর মৃন্ময়ী রূপ ফুটিয়ে তোলার দায়িত্বে ছিলেন স্থানীয় ইউনিটেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আর্ট অ্যান্ড ডিজাইন’ বিভাগের শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা। ভিনদেশি শিল্পীদের তুলির টানে ও নিখুঁত কারুকার্যে ফুটে উঠেছে দুর্গার স্নেহময়ী মাতৃরূপ।
Ei Samay
পঞ্চম বর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে চলতি বছরের আয়োজনে রাখা হয়েছে এলাহি ব্যবস্থা। প্রথম দিনে ঘট স্থাপন, ষষ্ঠী ও সপ্তমীর পুজো হয়। দ্বিতীয় দিনে অষ্টমী ও নবমীর পুজো, সন্ধিপুজো এবং সবশেষে বিসর্জনের আচার। পুজোর ক’দিন ঢাকের আওয়াজের পাশাপাশি প্রবাসের এই মণ্ডপ জমে উঠেছে কবিতা পাঠ, নাটক, গান, নাচ ও ম্যাজিক শো-সহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আর বাঙালির পুজো মানেই পাতপেড়ে পেটপুজো। রয়েছে সেই ব্যবস্থাও। সকল দর্শনার্থীর জন্য দুই দিনই রাখা হয়েছে বিশেষ ভোগের ব্যবস্থা।
চলতি বছর কেরেতারো সর্বজনীনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ বিশেষ ‘আন্তর্জাতিক উৎসব’। বিশ্ব মঞ্চে বাংলার ঐতিহ্য তুলে ধরতে এবং বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে সেতুবন্ধন গড়তে এই পুজোয় অংশ নিয়েছে মেক্সিকো, লেবানন, তুরস্ক, আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া ও নাইজেরিয়ার লোকজন। ধর্ম, বর্ণ ও ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে প্রবাসী ভারতীয়দের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মানুষের সহযোগিতায় মেক্সিকোর মাটিতে দুর্গাপুজো, যা আক্ষরিক অর্থেই এক আন্তর্জাতিক মিলন উৎসব।