Published on
:
2 min read
পূর্বাভাস আগেই ছিল। সেই মতো বঙ্গোপসাগরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গিয়েছে নিম্নচাপ। তা ক্রমশ শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘অর্ণব’। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টি সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ সতর্কতা রয়েছে উপকূলের জেলাগুলিতে। একই সঙ্গে মৎস্যজীবীদেরও গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। গভীর সমুদ্রে থাকা মৎস্যজীবীদের ২৬ অক্টোবর বিকেলের মধ্যে উপকূলে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
একনজরে
বঙ্গোপসাগরে ইতিমধ্যেই নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। সেটি শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির নাম ‘অর্ণব’। পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবারের মধ্যে এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।
২৬ অক্টোবর মধ্যরাত অথবা ২৭ অক্টোবর ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশের কাঁকিনাড়া উপকূলে ঘূর্ণিঝড়টি আছড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আগামী সপ্তাহে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের কয়েকটি এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ সোমবারের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। পরবর্তীতে সেটি আরও শক্তি বাড়িয়ে স্থলভাগের উপর আছড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার পরে ২৬ অক্টোবর মধ্যরাত অথবা ২৭ অক্টোবর ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশের কাঁকিনাড়া উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘অর্ণব’।
কলকাতায় আজ কেমন থাকবে আবহাওয়া?
শনিবার সকাল থেকে কলকাতার আকাশ আংশিক মেঘলা। বৃষ্টির সম্ভাবনা আপাতত নেই বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে। তবে আগামী সপ্তাহ থেকে বদলাতে পারে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া। আজ কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ০.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।
দক্ষিণবঙ্গে কেমন থাকবে আবহাওয়া?
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আগামী সপ্তাহ থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের কয়েকটি এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে ঝাড়গ্রামেও। তার সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে দমকা ঝোড়ো হাওয়া। পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৭ অক্টোবর থেকে উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের বিশেষ ভাবে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যটকদের সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের কথা জানানো হয়েছে।
উত্তরবঙ্গে কেমন থাকবে পরিস্থিতি?
আগামী সপ্তাহ থেকে উত্তরবঙ্গে বাড়তে পারে বৃষ্টির পরিমাণ। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের কয়েকটি এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দুর্যোগের জেরে নিচু এলাকায় জলজমা, বজ্রপাত, ফসলের ক্ষতি এবং দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি এলাকায় ধসের আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছে না আবহাওয়া দপ্তর।
FAQ
১. প্রশ্ন: বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ কি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে?
উত্তর: হ্যাঁ। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি শক্তি বাড়িয়ে সোমবারের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।
২. প্রশ্ন: সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির নাম কী?
উত্তর: সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির নাম ‘অর্ণব’ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
৩. প্রশ্ন: ঘূর্ণিঝড়টি কোথায় এবং কবে আছড়ে পড়তে পারে?
উত্তর: পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর মধ্যরাত অথবা ২৭ অক্টোবর ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশের কাঁকিনাড়া উপকূলে ঘূর্ণিঝড়টি আছড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এর গতিপথ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে সর্বশেষ সরকারি পূর্বাভাস অনুসরণ করা জরুরি।
৪. প্রশ্ন: ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের কোন কোন জেলায় বৃষ্টি হতে পারে?
উত্তর: দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের কয়েকটি এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
৫. প্রশ্ন: দক্ষিণবঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ কত হতে পারে?
উত্তর: পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি এলাকায় ঘণ্টায় ৪০–৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।