ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এমপির ভাতিজা পরিচয়ে দাপট, সাংবাদিকদের গাড়ি আটকে চাঁদা দাবি
বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
- আপডেট সময় : ০৯:১৩:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ২৮ বার পঠিত
মনিরুজ্জামান মনির, স্টাফ রিপোর্টারঃ
সংবাদ সংগ্রহে বেরিয়ে এবার ইজারার নামে হয়রানির শিকার টেলিভিশন সাংবাদিকরা। মাইক্রোবাস আটকে টাকা দাবি, বাধা দিতেই অসদাচরণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে নবীনগরের যুবদল নেতা আসাদুজ্জামান বিপ্লবের বিরুদ্ধে। নিজেকে সংসদ সদস্যের ভাতিজা পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ঘিরে এলাকায় শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। ঘটনার জেরে পৌর ইজারা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
শুক্রবার ২৩ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে নবীনগর-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কের আলীয়াবাদ মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংবাদ সংগ্রহের কাজে কয়েকজন টেলিভিশন সাংবাদিক মাইক্রোবাসে করে নবীনগরের ধরাভাঙ্গা গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। আলীয়াবাদ মোড়ে পৌঁছালে ইজারাদারের লোকজন গাড়িটি থামিয়ে ইজারার টাকা দাবি করেন। সাংবাদিকরা গাড়িটি টোলমুক্ত বলে জানালেও তাদের বক্তব্য আমলে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ডেকে আনা হয় যুবদল নেতা আসাদুজ্জামান বিপ্লবকে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে এসে বিপ্লব সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। একপর্যায়ে তিনি চড়াও হয়ে মারমুখী আচরণ করেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। নিজেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের ভাতিজা পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
তবে সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, তার কোনো ভাতিজা নেই। ঘটনার তীব্র নিন্দা ও দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, মিথ্যা পরিচয় দিয়ে যারা এ ধরনের অপকর্ম করেছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। পৌর কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে ইজারা বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
পৌরসভার ইজারাদার জাবেদুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন অসদাচরণের জন্য বিপ্লবকে ভৎসনা করা হয়েছে। ইউএনও ও সংসদ সদস্য ইতোমধ্যে ইজারা বাতিলের কথা বলেছেন।
নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরসভার প্রশাসক রাকিবুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকদের গাড়ি থেকে ইজারার টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ইজারাদারের লোকজনের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য তিনি আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি পৌর ইজারা বাতিলের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সাংবাদিকদের গাড়ি আটকে অর্থ দাবি, অসদাচরণ এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগে নবীনগরের এ ঘটনা নতুন করে সামনে এনেছে ইজারা আদায়ের নামে হয়রানির প্রশ্ন। এখন প্রশাসনের উদ্যোগ বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয়, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

