Published on
:
2 min read
এই সময়: চোরবাগানে দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনার পরে আহতদের কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর নিয়ে বিতর্ক দানা বেধেছে। সেই বিতর্কের জন্ম মূলত মেডিক্যালের জুনিয়র ডাক্তারদের অভিযোগের কারণেই। সেই জুনিয়র ডাক্তারদের পাশে দাঁড়িয়েছে চিকিৎসক সংগঠনগুলি। সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামো নিয়ে চিকিৎসকদের প্রশ্ন তোলার পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারির প্রতিবাদ জানিয়ে সিনিয়র ডাক্তারদের বক্তব্য, প্রশাসনিক ও পরিকাঠামোগত ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা চিকিৎসকদের অধিকার। তাঁদের দাবি, চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা না বলে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করায় নজর দিক সরকার।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্যভবনে আচমকা পরিদর্শনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগকারী জুনিয়র ডাক্তারদের নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, ওই চিকিৎসকরা আদৌ ডিউটি করছিলেন কি না। তাতে জুনিয়র ডাক্তাররা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁদের সবাই দুর্ঘটনার সন্ধ্যায় গত শনিবার ডিউটিতে না–থাকলেও তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েক জন অবশ্যই ডিউটিতে ছিলেন ইমার্জেন্সিতে। তাঁরা সরকারি পরিকাঠামো মজবুত করার দাবি তুলেছিলেন।
বৃহস্পতিবার সরকারি চিকিৎসকদের সংগঠন সার্ভিস ডক্টর্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সজল বিশ্বাস ওই জুনিয়রদের সমর্থন করে বলেন, ‘কোনও রোগীর চিকিৎসায় পরিকাঠামোগত অপ্রতুলতা বা প্রশাসনিক সমস্যার কারণে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে, কিংবা চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া রোগীকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হলে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা চিকিৎসকদের কর্তব্য। সেটাই মেডিক্যাল এথিক্স।’ চিকিৎসার নীতিবোধ রক্ষা করতে গিয়ে কোনও চিকিৎসক শাস্তির মুখে পড়লে চিকিৎসক সমাজকে তার প্রতিবাদে এগিয়ে আসতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এরই মধ্যে চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে আহতদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় ইএম বাইপাস লাগোয়া বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ধাপে ধাপে তাঁদের ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় আগেই। মঙ্গলবারই সেখানে চিকিৎসাধীন ১৪ জনের মধ্যে ১০ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। বাকি চার জনের মধ্যে দু’জন আইসিইউ–তে, এক জন হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে এবং এক জন জেনারেল ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। আইসিইউ–তে থাকা এক জনের শরীরের নীচের অংশে একাধিক হাড় ভেঙেছে।
আহতদের বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ফোরাম। যদিও মঙ্গলবারই মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, আহতদের প্রাণরক্ষার তাগিদেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল কোনও রকম হঠকারিতার সঙ্গে আপস না করে। সরকারি পরিকাঠামো আগামী দু’বছরে আরও উন্নত করা হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। যদিও চিকিৎসকমহলের একাংশের দাবি, এই সিদ্ধান্ত যে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্যে নেতিবাচক বিজ্ঞাপন, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।
অন্য দিকে, ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া ডেমোক্র্যাটিক স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশনের মেডিক্যাল ইউনিটের আহ্বায়ক সামস মুশাফিরের অভিযোগ, প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় আড়াল করতে আহতদের বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। জুনিয়র ডাক্তারদের প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রীর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি গণতান্ত্রিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী বলেও দাবি ওই সংগঠনের।
মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর স্বাস্থ্যভবনে সারপ্রাইজ় ভিজিট প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যভবনে এসেছিলেন, আমিও এসেছিলাম। কিন্তু কাউকে পাওয়া যায়নি। দপ্তরটা যেন ভূতের বাড়ি হয়েছিল। এমনটা আর চলতে পারে না। জরুরি পরিষেবা সচল রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’ এই প্রসঙ্গেই তিনি জানান, আগামী বছর দুর্গাপুজোয় স্বাস্থ্যভবন-সহ গুরুত্বপূর্ণ সব দপ্তরে একটানা ছুটির বদলে কর্মীদের ‘অপশনাল ডিউটি’ চালুর প্রস্তাব মুখ্যমন্ত্রীকে জানাবেন তিনি।
