ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা নেই। তবে ইরান ও দেশটির সহযোগীরা ইসরায়েলে হামলা চালালে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ইসরায়েলের আর্মি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নির্বাচনের আগে নতুন করে সামরিক সংঘাত সৃষ্টি এবং আগাম হামলার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের অভিযোগের বিষয়ে কথা বলেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, “এটি আমাদের জন্য সুবিধাজনক নয়, এটি মোটেও ভালো কিছু নয়।”
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি আরো বলেন, এমনকি ইরান ইসরায়েলের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলেও এর দায় তাঁর ওপরই চাপানো হবে।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে হামলা হলে ইসরায়েল কঠোর জবাব দেবে বলে আবারো স্পষ্ট করেন নেতানিয়াহু। নির্বাচনের পর ইরানে আগাম হামলার সম্ভাবনা কিংবা ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইরান নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর দেশগুলোর মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়। তবে গত জুনের পর থেকে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সরাসরি হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেনি।
সৌদি আরবে ইরান সমর্থিত হুথিদের হামলায় ইসরায়েল কোনো সহায়তা করছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, “আমি শুধু আপনাকে এটুকু বলতে পারি, আমাদের বিশাল সাফল্য ও অসাধারণ অর্জনের পর মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশই এখন আমাদের দিকে হাত বাড়াচ্ছে।”
চলতি সপ্তাহে রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় ১৩ জন নিহত হওয়াসহ সৌদি আরবে হামলার ঘটনা বেড়েছে। নেতানিয়াহু জানান, ইরানের সহযোগীরা নির্বাচনের আগেই ইসরায়েলে হামলা চালানোর সুযোগ খুঁজছে।
এদিকে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ লেবাননের ইরান সমর্থিত সংগঠন হিজবুল্লাহকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হিজবুল্লাহ মারাত্মক আঘাতের মুখে পড়বে এবং দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ ও লিতানি অঞ্চলের আরো ভূখণ্ড হারাবে। এসব ভূখণ্ড ইসরায়েলের স্থায়ী নিরাপত্তা অঞ্চলের অংশ হয়ে উঠবে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, দশ লাখ শিয়া বাস্তুচ্যুত হবে এবং বৈরুতে হিজবুল্লাহর ঘাঁটিও রেহাই পাবে না। সূত্র: উইয়ন নিউজ
সানা/আপ্র/১৫/১০/২০২৬
