ঘুমের মধ্যে হঠাৎ মনে হলো, শরীরের ওপর কেউ চেপে বসেছে। হাত-পা নাড়ানো যাচ্ছে না, মুখ দিয়ে কথাও বের হচ্ছে না। কখনও মনে হয়, ঘরে কেউ রয়েছে কিংবা বুকের ওপর ভারী কিছু চেপে আছে। এমন অভিজ্ঞতায় আতঙ্কিত হন অনেকেই। প্রচলিত বাংলায় একে বলা হয় ‘বোবায় ধরা’। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর নাম 'স্লিপ প্যারালাইসিস'।
কেন হয় ‘বোবায় ধরা’?
ঘুম ও জেগে ওঠার মধ্যবর্তী সময়ে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ সময় মস্তিষ্ক জেগে উঠলেও শরীরের পেশি সাময়িকভাবে নড়াচড়া করতে পারে না। ফলে কথা বলা বা হাত-পা নাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। কখনও অস্বাভাবিক শব্দ শোনা কিংবা কারও উপস্থিতি অনুভব করার মতো অভিজ্ঞতাও হতে পারে।
অনিয়মিত ঘুম, মানসিক চাপ, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব স্লিপ প্যারালাইসিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কিশোর ও তরুণদের মধ্যে এই সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
কীভাবে মিলবে মুক্তি?
স্লিপ প্যারালাইসিস সাধারণত কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যে কেটে যায়। এ সমস্যা কমাতে জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি।
- প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন।
- বয়স অনুযায়ী পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।
- ঘুমানোর আগে মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার কমান।
- মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত ব্যায়াম, ধ্যান বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করতে পারেন।
- ঘুমের আগে চা-কফি এড়িয়ে চলুন, বিশেষ করে রাতে।
- চিত হয়ে শুলে সমস্যা বাড়লে কাত হয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
বারবার স্লিপ প্যারালাইসিস হলে, ঘুম নিয়ে অতিরিক্ত ভয় তৈরি হলে কিংবা দিনের বেলায় প্রচণ্ড ঘুম পেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ, কখনও কখনও ঘুমের অন্য সমস্যার সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে।
ঘুমের মধ্যে ‘বোবায় ধরা’ ভয়ের অভিজ্ঞতা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি ক্ষণস্থায়ী। নিয়মিত ঘুম, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।
