সমাজমাধ্যম থেকে সাময়িক বিরতি নিয়েছেন অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন। সমাজমাধ্যমে অমিতাভ লিখেছেন, “আমাকে ক্ষমা করবেন। চিকিৎসকেরা আমাকে কয়েক দিন বিশ্রাম নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠার পরামর্শ দিয়েছেন। তাই আপাতত কিছু লিখতে পারছি না…।’’
৮২ বছর বয়সেও সমাজমাধ্যমে নিয়মিত ভক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন অমিতাভ। তাঁর এই ঘোষণার পর থেকেই অনুরাগীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এই ঘটনাই আবার তুলে এনেছে একটি জরুরি প্রশ্নকে— ক্রমাগত নোটিফিকেশন, স্ক্রলিং এবং স্ক্রিন টাইম মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর কতটা প্রভাব ফেলছে? চিকিৎসকেরা বলছেন, এই সময়ে দাঁড়িয়ে সকলেরই ‘ডিজিটাল ডিটক্স’-এর প্রয়োজন।
বিষয়টি আসলে কী?
ডিজিটাল ডিটক্স মানে প্রযুক্তি থেকে পুরোপুরি মুখ ফিরিয়ে নেওয়া নয়, বরং সচেতন ভাবে এর ব্যবহার কমানো। বিশেষ করে, যখন ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার দৈনন্দিন কাজ, সম্পর্ক বা বিশ্রামে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। মুম্বই নিবাসী মনোরোগ চিকিৎসক সামন্ত দর্শী বলেন, ‘‘ডিজিটাল ডিটক্সের ধারণা মানে পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া নয়, বরং নিজের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া।’’ তাঁর মতে, একটানা নোটিফিকেশন এবং স্ক্রলিং মস্তিষ্ককে অতিরিক্ত উত্তেজিত করে তোলে, যা মনোযোগ, আবেগ এবং কর্মক্ষমতার উপর প্রভাব ফেলে।
কেন দরকার ডিজিটাল ডিটক্স?
১. মানসিক চাপ কমাতে: সমাজমাধ্যম এমন ভাবে তৈরি, যাতে ব্যবহারকারীকে আটকে রাখা যায়। বার বার অন্যের সাজানোগোছানো জীবন বা সাফল্য দেখে নিজের জীবনের সঙ্গে তুলনা করার প্রবণতা তৈরি হয়, যা থেকে হীনম্মন্যতা আসতে পারে। বিরতি নিলে সেই তুলনা থেকে মুক্তি মেলে এবং নিজের কাজে মনোযোগ বাড়ে।
২. মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা বাড়াতে: কাজের মাঝে বার বার মেসেজ বা নোটিফিকেশন দেখলে মনোযোগ নষ্ট হয়। প্রতি বার অন্য কাজে মন গেলে আবার আগের কাজে ফিরতে সময় লাগে। তাই অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা এবং ফোন দূরে রেখে কাজ করলে উৎপাদনশীলতা বাড়ে।
৩. ভাল ঘুমের জন্য: রাতে শুয়ে শুয়ে স্ক্রলিং ঘুমের সবচেয়ে বড় শত্রু। স্ক্রিনের আলো এবং ক্রমাগত তথ্যের প্রবাহ মস্তিষ্ককে জাগিয়ে রাখে। মুম্বই নিবাসী চিকিৎসক গৌরব বত্রার মতে, ঘুমের আগে ডিজিটাল ডিটক্স মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য, ঘুমের গুণমান এবং সামগ্রিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত জরুরি। তাঁর মতে, প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন অন্তত সাত ঘণ্টা নিয়মিত ঘুম প্রয়োজন। ঘুমের সময়েই মস্তিষ্ক তথ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং স্মৃতি গঠন করে।
৪. অফলাইন অভ্যাস ফিরিয়ে আনতে: সমাজমাধ্যম থেকে বিরতি নিলে হাতে সময় বাঁচে। সেই সময়ে শারীরচর্চা, বই পড়া, শখের কাজ বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর মতো স্বাস্থ্যকর অভ্যাস তৈরি হয়।
কী ভাবে শুরু করবেন?
সমাজমাধ্যম পুরোপুরি ছাড়তে হবে না। ছোট ছোট পদক্ষেপেই শুরু করা যায় ডিটক্স। অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ করুন। ঘুমের অন্তত এক ঘণ্টা আগে ফোন দেখা বন্ধ করুন। খাওয়ার সময় ফোন দূরে রাখুন। দিনে্র নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন সোশ্যাল মিডিয়া দেখাদেখির জন্য। গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময় ফোন হাতের নাগালের বাইরে রাখুন। চিকিৎসকদের মতে, প্রযুক্তিকে এড়িয়ে চলা নয়, বরং সচেতন ভাবে ব্যবহার করাই হল ডিজিটাল ডিটক্সের মূল উদ্দেশ্য।
