২০২৩ সালে বুদাপেস্টে ইউরোপা লিগের ফাইনালে সেভিয়ার কাছে রোমার সেই পরাজয়ের কথা এখনও ভোলেননি হোসে মরিনহো। পর্তুগিজ এই কোচের মতে, ওই ম্যাচে তার দলের প্রতি ঘোর অন্যায় করা হয়েছিল। আর সেই ঘটনার পথ ধরেই পরবর্তীতে উয়েফার শাস্তির মুখেও পড়তে হয়েছিল তাকে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) লা লিগার নবম রাউন্ডের ম্যাচে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে সেভিয়াতে আতিথ্য দেবে মরিনহোর রিয়াল মাদ্রিদ।
রিয়াল মাদ্রিদের কোচের দায়িত্বে থাকাকালীন রিয়ালের ঘরের মাঠে সেভিয়ার বিরুদ্ধে সাতটি জয় ও মাত্র একটি পরাজয়ের রেকর্ড ছিল মরিনহোর। আর প্রতিপক্ষের মাঠে একটি হার ও একটি ড্র করেছিলেন তিনি। এরপরই আসে বুদাপেস্টের সেই ইউরোপা লিগ ফাইনালের ড্র, যা শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে হেরে যান তিনি।
এই বৈরিতার সূত্রপাত ২০২৩ সালের সেই ইউরোপা লিগ ফাইনালে, যেখানে ইংলিশ রেফারি অ্যান্থনি টেইলরের পারফরম্যান্সকে ‘ডাকাতি’ বলে অভিহিত করেছিলেন মরিনহো এবং ম্যাচের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।
তখন মরিনহো বলেছিলেন, ইউরোপীয় কোনো ফাইনালে এমনটা আমি মোটেও আশা করিনি। সবকিছু বোঝার জন্য ইবানেজের মুখের আঘাত দেখাই যথেষ্ট, কিংবা লামেলাকে দেখুন- যে পেনাল্টি মিস করেছে কিন্তু তার আগেই তার লাল কার্ড পাওয়া উচিত ছিল। প্রথম অর্ধে যারা দুর্দান্ত খেলল, তাদের ভাগ্যে মিলল তিনটি হলুদ কার্ড! পেলেগ্রিনি পড়ে গিয়ে হলুদ কার্ড পেল, অন্যদিকে ওকাম্পোস ফাউলের ভান করেও পার পেয়ে গেল।
তার ক্ষোভ কেবল রেফারিংয়ের সিদ্ধান্তের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ম্যাচ শেষে বুদাপেস্ট স্টেডিয়ামের টানেলে রেফারি টেইলরকে সরাসরি মুখোমুখি করেন পর্তুগিজ এই মাস্টারমাইন্ড। রেফারির লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, মরিনহো তাকে লক্ষ্য করে ‘এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক’ এবং ‘তুমি একটা আস্ত বিপর্যয়’ বলে তীব্র গালিগালাজ করেন।
মরিনহোর এই চরম অসন্তোষের অন্যতম বড় কারণ ছিল দ্বিতীয়ার্ধে ১-১ সমতায় থাকা অবস্থায় সেভিয়ার ডি-বক্সে ফার্নান্দোর স্পষ্ট হ্যান্ডবল সত্ত্বেও রোমাকে পেনাল্টি না দেওয়া।
শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি শুটআউটে জয় নিশ্চিত করে সেভিয়া, যেখানে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু দুর্দান্ত পারফর্ম করে প্রতিযোগিতায় নিজেদের রাজত্ব আরও সুদৃঢ় করেন।
রেফারিকে গালিগালাজ ও অশালীন আচরণের দায়ে মরিনহোকে চার ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করে উয়েফা। রোমার তৎকালীন এই কোচ তখন জবাবে বলেছিলেন, আমি যদি মুখ খুলি, তবে আমাকে ১০ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হবে।
স্প্যানিশ পত্রিকা ‘এএস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই থেকে বুদাপেস্টের ঘটনা বারবার ঘুরেফিরে আসে মরিনহোর স্মৃতিতে। আর সেভিয়ার মুখোমুখি হওয়া মানেই তার কাছে নিজের কোচিং ক্যারিয়ারের অন্যতম বিতর্কিত ও তিক্ত এক মুহূর্তের নতুন করে পুনরাবৃত্তি ঘটা।
