আয়োজকদের মতে, ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়া কেবল সহায়তা নয়, বরং এটি মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ, ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার থেকেই সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা এ কে এম নাজমূল হোসেন খান, পদ্মা গ্রুপ অ্যান্ড কোম্পানি; সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মো. ওমর ফারুক জালাল, প্রধান সম্পাদক, ডেইলি প্রেজেন্ট টাইমস; ভাইস চেয়ারম্যান শাহ আলম সুরমা, সহসম্পাদক, এস টিভি বাংলা; যুগ্ম মহাসচিব মো. মনিরুজ্জামান, প্রধান সম্পাদক, দৈনিক নবজীবন; সাংগঠনিক সম্পাদক মো. বিল্লাল হোসেন পাটওয়ারী, স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক মুক্তখবর; মো. মাসুদ মজুমদার, বিশেষ প্রতিনিধি, ডেইলি প্রেজেন্ট টাইমস; মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নুরুন্নাহার রিতা, সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক নবজীবন; মারিয়া ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সমাবেশ; সারহিন আক্তার, স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক মাতৃজগত; আইন ও প্রশাসনিক বিষয়ক সম্পাদক সালমান মাহমুদ, উন্নয়ন পরিচালক, ডিপিসি বাংলা টিভি; এবং দপ্তর সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম খোকন, ঢাকা রিপোর্টার, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার।
এ ছাড়া মো. স্বপন, সুরাইয়া, শুভ ও লিটনসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচির সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করেন ফাউন্ডেশনের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শাহনাজ সানু, স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক ভোরের সময়।
কর্মসূচি প্রসঙ্গে সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, “সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করাই আমাদের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি সমাজের অসহায় মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার মতো মানবিক কর্মকাণ্ডও অব্যাহত রাখতে চায় সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন।”
তিনি আরও বলেন, “প্রতি সপ্তাহে আমরা কমপক্ষে ৩০০ জনের খাবারের ব্যবস্থা করব, ইনশাআল্লাহ। এ মহতী উদ্যোগ বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করছি।” সংগঠনের কার্যক্রমের বিস্তৃতি তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে ফাউন্ডেশনের ৪৩টি জেলায় জেলা কমিটি এবং ১৪টি উপজেলা কমিটি রয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এ কর্মসূচি পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। সংগঠনের প্রতিটি কমিটি যেন নিজ নিজ এলাকার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ায়, সে লক্ষ্যেই কাজ করা হচ্ছে।
ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মো. ওমর ফারুক জালাল বলেন, “সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ালে ক্ষুধার্ত মানুষের কষ্ট অনেকটাই কমানো সম্ভব। মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ, ভালোবাসা ও সহমর্মিতা থেকেই একটি মানবিক ও ক্ষুধামুক্ত সমাজ গড়ে উঠতে পারে।”
ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান শাহ আলম সুরমা বলেন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রত্যেকের সামাজিক দায়িত্ব। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কষ্ট উপলব্ধি করে তাঁদের সহায়তায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এ ধরনের উদ্যোগ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সহযোগিতার মনোভাব বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আইন ও প্রশাসনিক বিষয়ক সম্পাদক সালমান মাহমুদ বলেন, মানবিক কার্যক্রম পরিচালনায় সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংগঠনের সদস্যরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে অসহায় মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া আরও সহজ হবে।
ফাউন্ডেশনের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মারিয়া ইসলাম বলেন, পথশিশু ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি মহৎ উদ্যোগ। বিশেষ করে যেসব শিশু ও মানুষ জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণে সংগ্রাম করছেন, তাঁদের প্রতি সমাজের সবার সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তাঁদের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।
সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, অধিকার ও কল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি সমাজের অসহায় মানুষের জন্যও বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কমলাপুর রেলস্টেশনে প্রায় ৩০০ মানুষের মাঝে খাবার বিতরণের এ কর্মসূচি সংগঠনটির সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার একটি অংশ। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগে সমাজের অন্য সংগঠন ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরাও অনুপ্রাণিত হবেন এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অসহায় মানুষের খাদ্যসংকট নিরসনে এগিয়ে আসবেন।
The post সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৩০০ অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ appeared first on ভোরের চেতনা.
