বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)। সম্ভাব্য এই আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাবে ২৭ বা ২৮ অক্টোবর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) নিজেদের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিডব্লিউওটির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব ও তৎসংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপটি শনিবার সকালে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি ধীরে ধীরে শক্তি বাড়িয়ে প্রথমে নিম্নচাপ, পরে গভীর নিম্নচাপ এবং শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পরবর্তী ৬ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে এটি নিম্নচাপ, ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে গভীর নিম্নচাপ এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, লঘুচাপের কেন্দ্র থেকে ১০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বাতাসের গড় সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৩৫ কিলোমিটার। দমকা ও ঝড়ো হাওয়ার সময় তা ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠছে। এতে সাগর ধীরে ধীরে উত্তাল হয়ে উঠছে।
সম্ভাব্য গতিপথ ও উপকূল অতিক্রম
বিডব্লিউওটির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আবহাওয়া ব্যবস্থাটি আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টা দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে। এরপর শক্তি বাড়িয়ে পশ্চিমমুখী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংস্থাটির ধারণা, সিস্টেমটি পশ্চিম-মধ্য ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে গিয়ে সর্বোচ্চ শক্তি অর্জন করতে পারে। আগামী ২৮ অক্টোবরের দিকে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে এটি ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ অথবা তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ওডিশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
তবে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির সর্বোচ্চ শক্তি কতটা হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বিডব্লিউওটির পূর্বাভাসে আপাতত বাংলাদেশের উপকূলে সরাসরি আঘাতের আশঙ্কা নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের যেসব অঞ্চলে বেশি বৃষ্টি হতে পারে
সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভারতের ওডিশা ও অন্ধ্রপ্রদেশে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর দূরবর্তী প্রভাবে বাংলাদেশেও বৃষ্টিপাত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিডব্লিউওটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৭ বা ২৮ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বরের মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর মধ্যে বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগে বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হতে পারে। চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টি হলেও তা তুলনামূলক কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে সতর্ক থাকার পরামর্শ
বিডব্লিউওটি জানিয়েছে, শনিবার পর্যন্ত বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর সমুদ্রবন্দরগুলোর জন্য কোনো সতর্কসংকেত জারি করেনি। তবে পরিস্থিতির পরিবর্তনে সতর্কসংকেত জারি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
এ অবস্থায় মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে গভীর সাগরে যাওয়া থেকে বিরত থাকার এবং উপকূলের কাছাকাছি সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ ও বাংলাদেশের ওপর প্রভাব সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী সরকারি পূর্বাভাস অনুসরণ করা জরুরি।
