জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন জামায়াতের বাধার পর কড়া নিরাপত্তায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তবে দাফনে কোনো রকম বাধা দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন জেলা জামাতের সহকারী সেক্রেটারি।
গতকাল শনিবার রাত ১টার দিকে পিরোজপুর সদরের চিতলিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতেই মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়।
এর আগে, তাঁর মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে, পুলিশ লাইনসের ভেতরে গোপনে তাঁকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
শনিবার সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের বাড়িতে মারা যান মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী। পরিবারের অভিযোগ, পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে গার্ড অব অনারের জন্য মানিক পশারীর মরদেহ নেওয়া হলে বাধা দেন জামায়াত নেতারা। পরে দাফনেও বাধা দেন তারা।
পিরোজপুর জেলা জামাতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে পিরোজপুর জেলা জামাতের নেতৃবৃন্দ এবং অঙ্গ সংগঠনের কোনো নেতৃবৃন্দ কোনো প্রকার বাঁধা সৃষ্টি করেনি। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ লাশের রাজনীতি করে না, তাই পিরোজপুর সদর থানা পুলিশকে পুরোপুরি সহায়তা করে লাশ দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর মরদেহ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মানিক পশারী (৮৭) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি জামায়াত নেতা মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও অন্যতম সাক্ষী ছিলেন। ২০২৪ সালে আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরে তিনি যশোরে ও গোপালগঞ্জে পলাতক ছিলেন। ২ মাস ধরে অসুস্থ হয়ে তিনি মারা যান।
