অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদের খতিব শেখ খালেদ আবু জুমআকে আটক করার পর মুক্তি দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর তাঁকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হলেও সাময়িকভাবে আল-আকসা মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
জেরুজালেম গভর্নর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে শেখ খালেদকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সংশ্লিষ্ট বিবরণ অনুযায়ী, জুমার নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাঁকে ঘিরে ফেলেন। এরপর তাঁকে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে আটকের কারণ কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, নামাজ শেষে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শেখ খালেদকে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে কতক্ষণ তাঁকে আটক রাখা হয়েছিল এবং জিজ্ঞাসাবাদে কী জানতে চাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
পরবর্তী সময়ে আল-আকসা মসজিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাবে দেওয়া এক বার্তায় তাঁর মুক্তির কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে তাঁকে সাময়িকভাবে মসজিদে প্রবেশ থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়। তবে এ ধরনের কোনো নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আটকের আগে জুমার খুতবায় শেখ খালেদ ফিলিস্তিনিদের নিজেদের ভূমিতে অবিচল থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন। পাশাপাশি চলমান জলপাই সংগ্রহের মৌসুম নিয়েও আলোচনা করেন তিনি। ফিলিস্তিনিদের কাছে জলপাই সংগ্রহ কেবল কৃষিকাজ নয়; ভূমি, জীবিকা ও ঐতিহ্যের সঙ্গেও এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে জলপাই সংগ্রহের মৌসুম ফিলিস্তিনি সমাজে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
খুতবায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননা করে বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তির দেওয়া বক্তব্যের বিষয়টিও তুলে ধরেন শেখ খালেদ। আল-আকসা মসজিদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এসব বিষয় তাঁর বক্তব্যে স্থান পেয়েছিল। তবে তাঁর খুতবায় উল্লিখিত বক্তব্যগুলোর সঙ্গে আটকের কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যায়নি।
অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় স্থান। মসজিদটি ঘিরে ধর্মীয় অনুভূতি, রাজনৈতিক বিরোধ এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত নানা ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। সেখানে ধর্মীয় নেতাদের চলাচল ও কার্যক্রমের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনাও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
শেখ খালেদ আবু জুমআকে আটকের পর দ্রুত মুক্তি দেওয়া হলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়েছে কি না এবং মসজিদে প্রবেশে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
-20261024060010.jpg&w=1440&q=75)