“আপনার ছেলে বিপদ ঘটিয়েছে জলদি আসুন।” ভোর পাঁচটা নাগাদ ফোন পেয়েই ভয় পেয়ে যান অভিভাবকরা। তড়িঘড়ি ফোন করেন ছেলেকে। কিন্তু তুলবে কে? ছেলে তো তখন ঘুমোচ্ছে। বেজে বেজে কেটে গিয়েছে মোবাইল। এদিকে দু’শো কিলোমিটার দূরে বসে হৃদস্পন্দন বেড়ে গিয়েছে মা-বাবার। তবে কি সত্যিই আশঙ্কাজনক কিছু! কোনওমতে চাট্টি মুখে গুঁজে বেরিয়ে পড়েন অভিভাবকরা। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে (Calcutta Medical College) প্রথম বর্ষের দুই পড়ুয়ার অভিভাবক দৌড়ে আসেন কলকাতা মেডিক্যালে। ছেলের মুখ দেখে তবে শান্তি! দেখা করেন কর্তৃপক্ষর সঙ্গে। প্রাথমিক তদন্তের পর দেখা গিয়েছে যে দুই পড়ুয়ার সঙ্গে এমনটা হয়েছে তারা দু’জনেই এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ছাত্র। সবে ১৫ দিন হল গ্রাম থেকে কলকাতায় এসেছেন। এর মধ্যেই পড়েছে র্যাগিংয়ের মুখে!
“থ্রেট কালচার নিপাত যাক।” স্লোগান উঠেছিল আর জি কর কাণ্ডের পর। কিন্তু সত্যিই কি বন্ধ হয়েছে কলেজে কলেজে র্যাগিং? কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের এই ঘটনার পর ফের উঠছে সেই প্রশ্ন। ওই দুই পড়ুয়ার একজন মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা। অন্যজনের বাড়ি কামারপুকুরে। অভিযোগ, সিনিয়রদের র্যাগিংয়ে তটস্থ দু’জন। ছাড়তে হয়েছে হস্টেলও। এই মুহূর্তে দু’জনেই বাইরে ঘর ভাড়া নিয়ে আছেন। এখানেই শেষ নয়, দুই পড়ুয়াকেই ক্যাম্পাসে বেশি ঘুরতে বারণ করেছে সিনিয়র দাদারা। বলেছে, “ক্লাস হয়ে গেলে যেন ক্যাম্পাসে বেশি না দেখি।” কারা দিচ্ছে হুমকি? ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মেডিক্যাল কলেজ। সোমবার, ওই দুই ছাত্রের অভিভাবকরা ছুটে আসেন কলকাতা মেডিক্যালে।
দেখা করেন আধিকারিকদের সঙ্গে।
অভিভাবকদের অনুরোধ, “সিনিয়রদের র্যাগিংয়ে আমাদের ছেলেরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একটু দেখুন।” কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, “সকলেই পড়াশোনা করতে এসেছে এখানে। এটা দাদাগিরি করার জায়গা নয়। কারও বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। ব্যবস্থা নেওয়ার এক্তিয়ার একমাত্র কর্তৃপক্ষর আছে। কাউকে হেনস্তা করা হলে তদন্তে তা প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে দ্রুত।” দুই ছাত্রই জানিয়েছে, “কোনও কোনও সিনিয়র আমাদের ক্যাম্পাসে বেশি থাকতে বারণ করেছে। ভয় লাগছে কোনওদিন কিছু না করেও যদি কিছুতে ফেঁসে যাই।” কর্তৃপক্ষ দুই ছাত্রকে জানিয়েছে, কেউ জোর করে হস্টেল থেকে বের করে দিতে পারে না। মন দিয়ে পড়াশোনা করো। বাকিটা আমরা দেখছি।
