সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের ইসলামপুর (গোবরপাড়া) গ্রামে ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন সড়কে দীর্ঘদিন, থাকা ফল ও ছায়াদানকারী বট বৃক্ষ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে পরিবেশ ও বিদ্যালয় প্রাঙ্গনের সৌন্দর্য রক্ষায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ ঘটনায় সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং বিদ্যালয়ের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখার দাবি জানিয়ে তাড়াশের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন গ্রামের পরিবেশ বান্ধব বাসিন্দারা।
আবেদনকারীদের অভিযোগ, ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন উত্তর পাশে চৌপাকিয়া-কুচিয়ামারা সড়কের অর্ধশতাব্দীর একটি বৃহদাকার আম ও বটগাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, গাছগুলো রাতের আঁধারে কেটে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। অভিযোগে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এই গাছ গুলি বিক্রী করেছে ।
গ্রামবাসীর ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে গাছগুলো পথচারীদের ছায়া দিত, মাঠের কৃষক ও শ্রমজীবী মধ্যে শিক্ষার্থীরাও গাছের ছায়ায় খেলাধুলা ও বিশ্রামের সুযোগ পেত। পাখির আবাসস্থল হিসেবেও গাছগুলো ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সেই ছায়াঘেরা পরিবেশ আজ বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, গাছ কাটার পর বিদ্যালয়ের সামনে নিজেদের জায়গার সাথে সরকারি জায়গা নিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। এতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনের পরিবেশ, সৌন্দর্য ও শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক চলাচল নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট জমির খতিয়ান ও দাগ নম্বর উল্লেখ করে আবেদনকারীরা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিনে গেলে, অভিযোগকারী গ্রামবাসীর পক্ষে আব্দুল জব্বার, ময়নাল শেখ, বাচ্চু সরকার, ইসহাক আলী ও কুদ্দুস মোল্লা বলেন, এই গাছগুলি ছিল পথিকের আশ্রয়, কৃষকের স্বস্তি, পাখির নিরাপদ ঠিকানা আর শিশুদের নির্মল শ্বাস নেওয়ার অবলম্বন।
এলাকাবাসীর দাবি সরেজমিন জরিপ ও তদন্ত, গাছ কাটার অভিযোগ খতিয়ে দেখা এবং আইনবহির্ভূত নির্মাণ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় মানুষের দাবি দ্রুত তদন্ত করে সরকারি সম্পত্তি ও বিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
