রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার পর জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক সব পক্ষকে ‘সামনের বিপর্যয় এড়ানোর’ আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, চলমান লড়াই কেবল মানুষের জন্য আরও দুর্দশা ডেকে আনবে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুথিদের ধারাবাহিক হামলার পর সৌদি আর ‘কঠোর’ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছে। ওই হামলায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত সপ্তাহ থেকে চলে আসা এই প্রাণঘাতী বিমানবন্দর হামলা বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশটির স্থায়িত্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, ‘সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে গত কয়েক দিনে হুথিদের বারবার চালানো হামলায় আমি স্তম্ভিত। সেখানে কয়েক ডজন সৌদি ও বিদেশি নাগরিক হতাহত হয়েছেন; বিশেষ করে গতকাল রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরে চালানো ভয়াবহ হামলাটির ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত।’ তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অধীনে বেসামরিক নাগরিক এবং বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, তাই এগুলো অবশ্যই তদন্ত করা উচিত এবং দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত।’
ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনের সরকারকে সমর্থন করে আসছে। এই সংঘাত মার্কিন-ইরান সংঘাতের কয়েক মাস পর পুনরায় জ্বলে উঠেছে এবং তা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যকে সংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ ইয়েমেন আগে থেকেই এক বিশাল মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল।
ভলকার তুর্ক বলেন, ‘ইয়েমেন এবং সৌদি আরব উভয় স্থানেই বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সংঘাতের বিধ্বংসী প্রভাব সমস্ত পক্ষকে মনে করিয়ে দেয় যে, যুদ্ধ চালিয়ে গেলে কেবল আরও দুর্ভোগ বাড়বে, যার কোনো শেষ নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি তাদের উত্তেজনা হ্রাস করতে এবং পরবর্তী বিপর্যয় এড়ানোর জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, লড়াই বৃদ্ধি পাওয়ার পর থেকে ইয়েমেনে ২ লাখ ১৭ হাজারেরও বেশি মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।
এর আগে, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক প্রধান বারহাম সালিহ রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলাকে ‘নিন্দনীয়’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, ইয়েমেনে সাম্প্রতিক লড়াই এবং মানুষের বাস্তুচ্যুতি কেবল বছরের পর বছর ধরে চলা সংঘাতের ফলে কোটি কোটি মানুষের অপরিসীম কষ্টকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। এই বিপজ্জনক পরিস্থিতির অবশ্যই অবসান ঘটতে হবে এবং এই সংঘাতের ইতি টানতে প্রতিটি প্রচেষ্টা চালাতে হবে।’
