শীঘ্রই ইসিএ আইন বাতিল হয়ে আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার -৩ ( সদর, রামু, ঈদগাঁও ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। তিনি বলেছেন, ইসিএ আইন বাতিল না হলে ৯০ শতাংশ স্থাপনার একটিও টিকবে না। অথচ আমরা প্রতিবছর সরকারকে ১৮০০ কোটি রাজস্ব দিয়ে থাকি। মাস্টারপ্ল্যানের কাজ শুরু হলে, এ আইন এমনিতেই বাতিল হবে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) জেলা প্রশাসন আয়োজিত জেলা নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে হোটেল -মোটেল-রিসোর্ট-রেস্তোরাঁ ও অংশীজনদের সাথে মতবিনিময় সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেছেন।
তিনি বলেছেন, সবার আগে পর্যটকদের নিরাপত্তা, তারা কক্সবাজার আসলে পর্যটন ব্যবসা চাঙা হয়; তাঁদের চাওয়া-পাওয়াকে আগে গুরুত্ব দিতে হবে। পর্যটক না আসলে এই কক্সবাজারের কোন মূল্য থাকবে না। এজন্য শিল্পের বিকাশে প্রশিক্ষিত জনবল তৈরিতে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, কক্সবাজার শুধু পর্যটন নগরী না, এটি একটি অর্থনৈতিক হাবও; কক্সবাজারকে নিয়ে সরকারের বৃহৎ পরিকল্পনা রয়েছে। নভেম্বরে আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টে চালু হবে, এখান থেকে সরকারি ৭-৮ টি দেশে যাওয়া যাবে; গভীর সমুদ্র হবে, যেটি হবে চট্টগ্রামের থেকে বহুগুণ বড়; সমুদ্রের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য ব্লু-ইকোনমি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে ; ভেবে দেখেন কক্সবাজারের অবস্থান কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। এজন্য আমাদের প্রত্যকের অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে হবে; আমাদের পরিবেশ আমাদেরকেই তৈরি করতে হবে। সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে কক্সবাজারকে একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
এসময় তিনি টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ও সমুদ্র ভেসে গিয়ে নিহতের আত্মার মাগফেরাত এবং সকল পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে রাখেন, সংসদীয় নারী আসনের এমপি শামীম আরা স্বপ্না, জেলা প্রশাসক মোঃ আঃ মান্নান, পুলিশ সুপার পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান, কউকের সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা বেগম, জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা, পৌরসভার প্রশাসক শাহিন আল ইমরান, সিভিল সার্জন, টুরিস্ট পুলিশ ও হোটেল মোটেল মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ।
এদিন সকাল সাড়ে ৯টায় হোটেল -মোটেল জোন -এ মশক নিধন ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ড্রেইন পরিষ্কার চলমান কার্যক্রম দেখতে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। এসময় তিনি কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং শহরের সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করার সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা প্রদান করেন।
একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য নিরাপদ শহর গড়ে তোলতে ড্রেনে বর্জ্য না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার জন্য শহরবাসীর প্রতি আহবান জানান তিনি।
এসময় পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা কবির হোসেন, ১২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো: নাছির উদ্দীন, কক্সবাজার সদর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মোতাহের হোসেন, কক্সবাজার জেলা ছাত্রদল ফারুক আজম, সাবেক সহ-সভাপতি, মুহাম্মদ ইমরান আব্দুল, ছাত্রনেতা, কক্সবাজার সদর উপজেলা ছাত্রদল নেতা রহিম উল্লাহ খান রানা, শহর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিনারুল কবির আল-আমিন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, সাখাওয়াত উসমান, সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল করিম, সিটি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব, শহর ছাত্রদল নেতা তাহসিন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
