আন্তর্জাতিক ফুটবলকে ইতোমধ্যে বিদায় জানিয়েছেন। চোট আর বয়সের কারণে ক্লাব ফুটবলেও নেইমার জুনিয়রকে আগের মতো মাঠে প্রতিনিয়ত দেখার সুযোগ কমে আসছে। প্রিয় ফুটবলকে চিরতরে বিদায় জানানোর পর কী করবেন ব্রাজিলিয়ান এই সুপারস্টার? অবশেষে নিজের অবসর পরের জীবন, পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা খোলসা করলেন সান্তোসের এই পোস্টার বয়।
সম্প্রতি ব্রাজিলের জনপ্রিয় টকশো ‘ভারান্দা গুরমে’-তে সঞ্চালক মৌরিসিও মেইরেলেস ও ড্যানিয়েল জুকারম্যানের মুখোমুখি হয়ে নিজের অবসর ভাবনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন নেইমার। মাঠের খেলা শেষ করার পর জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায়টি কীভাবে কাটাতে চান, সেই অভিজ্ঞতার কথাই তুলে ধরেছেন তিনি।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নেইমার জানান, পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানানোর পর প্রথম একটি বছর কোনো ধরনের নিয়ম বা পেশাগত বাধ্যবাধকতার মধ্যে থাকতে চান না তিনি। নিজের খেয়ালখুশিমতো সময় কাটানোর পূর্ণ স্বাধীনতা উপভোগ করতে চান এই ফরোয়ার্ড। এমনকি অবসর নেওয়ার পর বিনোদনের জন্য আবার কখনো মাঠে নামবেন কি না—সেই সিদ্ধান্তও তিনি নিজেই নেবেন।
মজার ছলে এই ব্রাজিলিয়ান তারকা বলেন, ‘অবশ্যই, আমি যখন পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানাব, তখন জীবনের প্রথম একটা বছর একদম কিচ্ছু করব না! শুধু অলস সময় পার করব আর আরাম করব। তখন আমার দৈনন্দিন জীবনটা হবে খুব সাধারণ—আজকে ফুটবল খেলতে ইচ্ছে করছে, তাই মাঠে যাব। আবার কোনোদিন কিচ্ছু করতে মন চাইবে না, তো সারাদিন শুয়ে-বসে কাটাব।’
খেলার মাঠের বাইরে নিজের সন্তানদের কীভাবে সময় দেন—সে বিষয়েও কথা বলেছেন নেইমার। তিনি জানান, ক্লাবের কঠিন অনুশীলন ও দীর্ঘ ফিজিওথেরাপি সেশনের ব্যস্ততার মাঝেও সন্তানদের জন্য আলাদাভাবে সময় বের করে নেন তিনি। বিশেষ করে মেয়ের সঙ্গে অ্যানিমেটেড সিনেমা উপভোগ করার অভিজ্ঞতা তিনি খুব পছন্দ করেন।
নিজের পারিবারিক জীবন নিয়ে নেইমার বলেন, ‘আমার সময়টা সবসময় খুব ব্যস্ততার মধ্যে কাটে—টানা ফিজিওথেরাপি, কঠিন অনুশীলন... তবুও এসবের ফাঁকে সন্তানদের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ রাখি। ওরা যেটা করতে ভালোবাসে, আমিও সেটাই ওদের সঙ্গে করার চেষ্টা করি। আমার মেয়ে ‘শ্রেক’ আর ‘দ্য গ্রিঞ্চ’ সিনেমা দুটো খুব পছন্দ করে, আমিও ওর পাশে বসে হাসিমুখে সেগুলো দেখি।’
