কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বাউল ফকির লালন শাহের মাজারের প্রবেশপথের পাশ থেকে পেট্রোলভর্তি বোতল, লোহার পাইপ ও বিদ্যুতের তার যুক্ত একটি সন্দেহজনক ডিভাইস উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার রাত ১টার দিকে মাজারের প্রবেশপথের ডান পাশের একটি নারকেলগাছের কাছ থেকে ডিভাইসটি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন।
এ ঘটনায় উৎসবে আসা হাজার হাজার সাধু-ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উৎসব শুরুর পর থেকেই মাজারের দক্ষিণ পাশে নারিকেল গাছতলায় একটি অস্থায়ী চায়ের দোকান পরিচালনা করছিলেন এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। সারাদিনের বেচাকেনা শেষে রাত ১২টার দিকে দোকান গোছানোর সময় চুলার পাশে মাটিতে একটি সাদা রঙের ব্যাগ তার নজরে আসে। ব্যাগটি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি সেটি খুলে লাল রঙের ইলেকট্রিক টেপ দিয়ে শক্ত করে পেঁচানো বিস্ফোরক সদৃশ বস্তু, দুটি ইলেকট্রনিক সার্কিট ডিভাইস এবং একটি বোতলে প্রায় দুই লিটার পেট্রোল দেখতে পান।
ঘটনাটি দেখার সঙ্গে সঙ্গেই ওই ব্যবসায়ী কুমারখালী থানা পুলিশ এবং লালন উৎসবের আয়োজক কমিটিকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে কুমারখালী থানা পুলিশ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি চালায় ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে মাজারের প্রধান প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দেয় এবং সাধু-সন্ন্যাসী ও দর্শনার্থীদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে পুরো এলাকা তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে ঘিরে রাখে।
অপ্রীতিকর ঘটনা ও অতিরিক্ত আতঙ্ক এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা হয়। মধ্যরাত থেকেই মাজার ও সংলগ্ন এলাকায় বাড়তি পুলিশ, এপিবিএন এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়।
খবর পেয়ে সোমবার (১৯ অক্টোবর) ভোরে ঢাকা থেকে পুলিশের বিশেষ বোম ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার করা বস্তুগুলো ও পেট্রোল সতর্কতার সঙ্গে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং এলাকাটিকে ঝুঁকিমুক্ত ঘোষণা করে।
বর্তমানে মাজার ও আশপাশের এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং এই চক্রান্তের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে।
