প্রতিরক্ষা খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় এবং অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করেও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলা পুরোপুরি ঠেকাতে পারছে না সৌদি আরব। দেশটির বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার, পাইপলাইন ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে এনেছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দেশটির নির্ভরতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সৌদি আরব প্রতিরক্ষা খাতে ৮৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। দেশটির হাতে রয়েছে মার্কিন যুদ্ধবিমান, প্যাট্রিয়ট ও থাডের মতো উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। তবু বিশাল ভূখ-জুড়ে ছড়িয়ে থাকা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
হুতিরা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি দূরপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করছে। একযোগে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র নিক্ষেপের ফলে প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে। নিচু দিয়ে উড়ে আসা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করাও কঠিন। ফলে অনেক হামলা প্রতিহত করা গেলেও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘাতের ৩৭ দিনে ইয়েমেনে নতুন করে প্রায় ১৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা দখলে নিয়েছে হুতিরা। একই সময়ে সৌদি আরবের বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে অন্তত দুই ডজন বড় হামলার তথ্য উঠে এসেছে। হামলায় রিয়াদসহ বিভিন্ন শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হুতিদের সঙ্গে সংঘাত বাড়ানো সৌদি আরবের জন্য বড় ঝুঁকি। তীব্র বিমান হামলা চালালে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হতে পারে, আর সমঝোতা করলে তা রাজনৈতিকভাবে কঠিন সিদ্ধান্ত হবে। হুতিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জোট গঠনের চেষ্টা করছে রিয়াদ। পাশাপাশি ইরানও মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে।