ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও গোপন প্রক্রিয়া অনুসরণের অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া প্রত্যেকটি সার ডিলারশিপ দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি চক্রের বিরুদ্ধে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা নেওয়ার অলিখিত চুক্তির গুঞ্জন রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন গৌরীপুর পৌর কৃষক দলের সভাপতি ও মুন্সী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. গোলাম কাজীয়েল হাজাত মুন্সী ওরফে শাহী মুন্সী।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে গৌরীপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শাহী মুন্সী বলেন, গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নে সার ডিলার হওয়ার জন্য তিনি আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কোনো ধরনের স্বচ্ছতা বজায় না রেখে এবং আবেদনকারীদের না জানিয়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে লটারি অনুষ্ঠিত হয়।
লটারির ভিডিও দেখে তিনি জানতে পারেন, ডৌহাখলা ইউনিয়নে লটারিতে তাঁর নাম প্রথমে উঠেছিল। কিন্তু রহস্যজনকভাবে চূড়ান্ত প্রকাশিত তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন কিংবা উপজেলা কৃষি বিভাগ চূড়ান্তভাবে যাচাই করা প্রার্থীদের তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশ করেনি। আবেদনকারীদের ধারণা, প্রত্যেকটি ডিলারশিপ দেওয়ার ক্ষেত্রে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক, ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব এবং একটি চক্রের বিরুদ্ধে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা নেওয়ার অলিখিত চুক্তির গুঞ্জন রয়েছে।
তাই দুর্নীতির মাধ্যমে তৈরি করা ডিলার তালিকা বাতিল করে সরকারের নতুন প্রণীত ‘সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা’ অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের ডিলার লাইসেন্স দেওয়ার জোর দাবি জানান তিনি।
এদিকে, গৌরীপুরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের লক্ষ্যে তৈরি করা তালিকা বাতিলের দাবিতে গত রোববার (১১ অক্টোবর) কৃষিমন্ত্রী বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন উপজেলা ও পৌর বিএনপির চার নেতা। তাঁরা হলেন গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. হাবিবুল ইসলাম খান শহীদ, ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব আব্দুর রহমান বাবুল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলী আকবর আনিছ এবং ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব মো. রমজান হোসেন খান জুয়েল। তাঁরা যৌথভাবে ওই আবেদন করেন।
গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম খান শহীদ বলেন, সার ডিলার নিয়োগের বিষয়ে দল এবং প্রতিমন্ত্রী মহোদয় কিছুই জানেন না। তাঁরা দলীয়ভাবে সার ডিলার নিয়োগের তালিকা বাতিলের দাবিতে কৃষিমন্ত্রী বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।
আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, কেউ যদি এ ধরনের লেনদেনে জড়িত থাকতেন, তাহলে তাঁরা কৃষিমন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ করতেন না।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) কাওছার আহম্মদ খান জানান, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় সার ডিলারশিপের জন্য ১৪১ জন আবেদন করেছেন। এসব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১১ জন কর্মকর্তা তদন্ত করেন। পরবর্তীতে ৩৩ জনের নামের তালিকা পাঠানো হয়। তবে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, গত ২৪ সেপ্টেম্বর যাচাই-বাছাই করা ডিলারদের নামের তালিকা অনুযায়ী লটারির শেষ পর্যায়ে ‘মব’ সৃষ্টির মাধ্যমে তা বাতিল করা হয়। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ডিলারদের নামের তালিকা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ নেই বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ১৪ থেকে ১৫ জন করে আবেদন করেছেন। কিন্তু ডিলার হিসেবে দেওয়া হয়েছে একজনকে। তাই অন্য আবেদনকারীরা সংক্ষুব্ধ হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, যাঁদের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের নীতিমালা অনুযায়ী নির্বাচন করা হয়েছে। কেউ অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আসতে হবে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
