শরীয়তপুরের মানুষের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ভালোবাসা, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং যোগাযোগব্যবস্থার সুবিধা বিবেচনায় প্রস্তাবিত শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্বাচন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে এ অঞ্চলে উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার পূর্ব ডামুড্যায় জয়ন্তী নদীসংলগ্ন প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
হুইপ অপু বলেন, প্রধানমন্ত্রী কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে শরীয়তপুরের মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসার প্রমাণ দিচ্ছেন। তিনি বাংলাদেশের অন্যান্য জেলাকেও ভালোবাসেন। তবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শরীয়তপুরের মানুষের প্রতি তাঁর বিশেষ ভালোবাসা প্রকাশ পাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য বিপুল পরিমাণ জমি ও উপযুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন। জমির প্রাপ্যতা, পরিবেশ ও অর্থনৈতিক বিষয় বিবেচনায় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে পরামর্শ করে এ স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অন্য স্থানে জমি অধিগ্রহণের ব্যয় বহন করা কঠিন হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় স্থানীয়দের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে হুইপ বলেন, এলাকার মানুষ প্রতিষ্ঠানটির জন্য নিজেদের জমি ও বসতবাড়ি ছেড়ে দিতেও সম্মতি জানিয়েছেন। তাঁদের এ ত্যাগ ও সহযোগিতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু বলেন, শরীয়তপুরের ওপর দিয়ে বরিশালগামী রেললাইন নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার প্রস্তুতি চলছে। প্রস্তাবিত রেলপথটি নাওডোবা থেকে শরীয়তপুর সদর, জাজিরা, ডামুড্যা, ভেদরগঞ্জ ও গোসাইরহাট হয়ে বরিশাল এবং পায়রা বন্দরের দিকে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
পাশাপাশি ভোলা থেকে সেতুর মাধ্যমে মেহেন্দিগঞ্জ হয়ে প্রস্তাবিত জাতীয় মহাসড়কটি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌগোলিক গুরুত্ব তুলে ধরে হুইপ বলেন, চাঁদপুর, বরিশাল, মাদারীপুর ও বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের মাঝামাঝি হওয়ায় স্থানটি যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
পরিদর্শনকালে শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হোসেন উদ্দিন শেখর, জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
