অস্ত্র নিয়ে সাংবাদিক এহসানুল হককে অনুসরণের অভিযোগ, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
- রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ / ১১ জন দেখেছে

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সাংবাদিক মো. এহসানুল হক (এহসান বিন মুজাহির) কে অস্ত্রধারী এক অজ্ঞাত যুবক মোটরসাইকেল নিয়ে অনুসরণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওই সাংবাদিক। এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার আবেদন করা হয়েছে, যা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিক এহসানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে শনিবার রাতে শ্রীমঙ্গল প্রেস ক্লাবের জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির আহ্বায়ক সৈয়দ সালাউদ্দিন।
ভুক্তভোগীর সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১১টা ২৫ মিনিটে শ্রীমঙ্গল শহরের কালিঘাট রোড থেকে মুসলিমবাগ এলাকায় নিজ বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন এহসান বিন মুজাহির। মুসলিমবাগ সড়কে প্রবেশের পর ‘ঢাকা মেট্রো-ল-১২৮৩’ নম্বরের একটি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল তাকে অনুসরণ করতে থাকে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার অভিযোগ, তিনি মোটরসাইকেলের গতি বাড়ালে বা কমালে পেছনে থাকা আরোহীও একইভাবে গতি পরিবর্তন করছিলেন। একই সময়ে সামনে থাকা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তিনজন যুবক তার দিকে নজর রাখছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন।
পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় মুসলিমবাগ এলাকায় লন্ডনপ্রবাসী তুহিন চৌধুরীর ভবনের সামনে থামেন এহসান। এ সময় তার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মাহমুদুল হাসান নাঈম ওই পথে যাওয়ার সময় তাকে বিষয়টি জানান। অভিযোগ অনুযায়ী, মোটরসাইকেল আরোহী কিছু দূরে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে থাকেন। পরে বিপদের আশঙ্কায় এহসান মোটরসাইকেলের হেডলাইট বন্ধ করে একটি গলির ভেতর দিয়ে সরে যান।
শিক্ষক মাহমুদুল হাসান নাঈমের দাবি, মোটরসাইকেল আরোহী যুবকের কোমরের বাম পাশে বেল্টে গোঁজা অবস্থায় পিস্তলসদৃশ একটি আগ্নেয়াস্ত্র তিনি দেখতে পান। তার বর্ণনা অনুযায়ী, ওই যুবকের পরনে ছিল থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট ও নেভি ব্লু টি-শার্ট এবং পায়ে ছিল হাফ মোজা। যুবকটিকে এর আগে ওই এলাকায় দেখেননি বলেও জানান তিনি।
তবে অস্ত্রের উপস্থিতি, মোটরসাইকেল আরোহীর পরিচয় এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
সাংবাদিক এহসানুল হক দীর্ঘদিন ধরে মাদক, অনিয়ম ও দুর্নীতিবিষয়ক সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন। তার দাবি, পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে এর আগেও তিনি বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও হয়রানির মুখে পড়েছেন।

