যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলার ঘটনায় তিন শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন শিক্ষকও রয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে আরও এক শিশু ও এক শিক্ষক।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অঙ্গরাজ্যটির বেন্ড শহরের সিলভার রেল এলিমেন্টারি স্কুলে এ হামলা চালানো হয়। বেন্ড শহরটি পোর্টল্যান্ড থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।
বেন্ড পুলিশের প্রধান মাইক ক্রান্টজ জানান, নিহত তিন শিশুর বয়স ছিল পাঁচ, আট ও ১১ বছর। হামলায় আহত সাত বছর বয়সী এক শিশু এবং ৫৪ বছর বয়সী এক শিক্ষককে গুরুতর অবস্থায় সেন্ট চার্লস মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলার জন্য ১৬ বছর বয়সী স্থানীয় এক কিশোরকে সন্দেহ করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তালাবদ্ধ দরজায় গুলি চালিয়ে জোরপূর্বক বিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে ওই কিশোর। সে আগে কখনো এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ প্রধান ক্রান্টজের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫৯ মিনিটে জরুরি সহায়তা চেয়ে প্রথম ফোনকলটি আসে। এরপর অল্প সময়ের মধ্যে আরও বেশ কয়েকটি ফোন পান জরুরি সেবাকর্মীরা।
প্রথম ফোনটি করেন একটি গাড়িতে থাকা এক ব্যক্তি। তিনি জানান, লম্বা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে এক ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে একাধিকবার গুলি ছুড়েছে।
এরপর দুপুর ১টা ১ মিনিটে বিদ্যালয়টিতে লকডাউন জারি করা হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান পুলিশ সদস্যরা।
ক্রান্টজ জানান, সন্দেহভাজন হামলাকারী বিদ্যালয়ে প্রবেশ করলে স্থানীয় এক ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করে ভেতরে যান। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি হামলাকারীকে গুলি করেন। পরে পুলিশ বিদ্যালয়ে ঢুকে সন্দেহভাজনের মরদেহ দেখতে পায়।
এরপর পুলিশ সদস্যরা পুরো বিদ্যালয়ে তল্লাশি চালিয়ে অন্য কোনো ধরনের হুমকি রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে আহতদের জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। হামলার পেছনের কারণ কী এবং সন্দেহভাজন কিশোরের সঙ্গে বিদ্যালয়টির আগে থেকে কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
