নাজমুল করিম ফারুক
প্রতিমা তৈরীর ক্ষেত্রে অনেক সর্তকতা অবলম্বন করতে হয়। মাটির কাঠামো থেকে
শুরু করে তুলির শেষ আঁচড় পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে আমাদের দক্ষতার প্রমাণ দিতে
হয়। যার শৈল্পিক জ্ঞান বেশি সে নিখুঁতভাবে দেবীর রূপকে জীবন্ত করে তোলে।
বছরে জুড়ে ছোটখাটো কিছু কাজ হলেও দুর্গাপূজার এই সময়টাই আমাদের
কাজের গতি বাড়ে। তারপরও বাবার পেশা হিসেবে এই পেশাকে বেছে নিয়েছি।
লেখাপড়ার পাশাপাশি প্রতিমা তৈরীর কাজ করি। কুমিল্লার তিতাসের মাছিমপুর
আর আর ইনস্টিটিউশন মাঠের এক কোণে অস্থায়ী স্থাপনায় তুলির আঁচড় দিয়ে
প্রতিমার রূপ ফুটিয়ে তোলার ফাঁকে কথাগুলো বলছিলেন সীমান্ত সাহা।
সীমান্ত প্রতিমা শিল্পালয়ের স্বত্বাধিকারী সীমান্ত সাহা জানান, গত আড়াই মাস
আগে এখানে অস্থায়ী স্থাপনা তৈরী করে ৭টি প্রতিমা তৈরী করা হচ্ছে। প্রতিদিন
৫/৬জন শ্রমিক এখানে কাজ করছেন। আকার ও কাজের উপর নির্ভর করে প্রতিমা
তৈরীর দরদাম হয়। ক্ষেত্র বিশেষে এক একটি প্রতিমা ৫০ হাজার থেকে শুরু করে ৮০
হাজার টাকা পর্যন্ত অর্ডার নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে প্রতিমাগুলো স্ব-স্ব
স্থানে পাঠানো হবে।
উপজেলার কলাকান্দি ইউনিয়নে নাগেরচর গ্রামে সুশান্ত পালের প্রতিমা তৈরীর
কারখানা। প্রবেশ করতেই দেখা গেল, ৬/৭জন কারিগর প্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত। একজন
মাটি পাতিলে নিচ্ছে, আরেকজন প্রতিমার গায়ে মাটি লেপে অবয়ব তৈরী করছে।
অন্য আরেকজন ফাটল ধরা স্থান মসৃণ করছেন। বলতে গেলে সকলেই ব্যস্ত। এরই মধ্যে
সুশান্ত পালের ফোন বেঁজে উঠেছে। ঐপ্রান্ত থেকে জানতে চাওয়ার উত্তরে সুশান্ত
পাল বলছেন, দাদা, সোমবারে প্রতিমার রংয়ের কাজ শেষ হবে। মঙ্গলবারের মধ্যে আমরা
প্রতিমা দিতে পারবো, কোন টেনশান করেই না। ব্যস্ত মানুষ সুশান্ত পাল। মাটির
পাত্রে হাত ভিজিয়ে প্রতিমার গায়ে লেপে দিচ্ছেন এবং বলছেন, দাতা প্রতিমা
সকলে তৈরী করতে পারে না। এক একটি প্রতিমাকে জাগ্রত করে তুলতে হলে অনেক
দক্ষতার পরিচয় দিতে হয়। বিশেষ করে দেবীর চোখ ও মুখের আকৃতি।
সুশান্ত পালের কাজে সহযোগিতা করছে তার একাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে
বাঁধন পাল। কথা হলে বাঁধন পাল জানান, তাদের কারখানায় ১০টি প্রতিমা তৈরী
হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে তিতাসে ৪টি এবং মেঘনা, হোমনা, দেবিদ্বার ও মুরাদনগরের
৬টি। প্রায় দুই মাস আগে থেকে কাজ শুরু করেছি। বিশাল আকৃতির দুটি
প্রতিমা ইশারায় দেখিয়ে বললেন, এগুলো ১ লাখ টাকা করে অর্ডার নেওয়া। মাঝারি
সাইজের প্রতিমাগুলো ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকায় অর্ডার নেওয়া হয়।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, এবার উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে
১৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। সনাতন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বৃহত্তর উৎসব
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে পূজা বাড়িগুলোতে চলছে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি।
তিতাস থানার ওসি মমিরুল হক জানান, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর
সাথে পূজা উদযাপন পরিষদের একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে
স্থানীয় গ্রাম পুলিশের পাশাপাশি থানা পুলিশ ও আনসারগণ দায়িত্ব পালন করবে।
বিশেষ করে প্রতিটি মণ্ডপে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য থানা পুলিশের
উদ্যোগে আলাদা সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহাম্মেদ মোফাচ্ছের জানান, ইতিমধ্যে প্রশাসন
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মনিটরিং কমিটির গঠন করেছে। প্রতিটি
ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারগণ ঐ ইউনিয়নের পূজামণ্ডপগুলোতেও
