Published on
:
2 min read
এই সময়, হাওড়া: ‘এ জগতে হায় সেই বেশি চায়, আছে যার ভুরি ভুরি, রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই ভাবনা আজও সমান ভাবে প্রাসঙ্গিক। সমাজের এক শ্রেণির মানুষের হাতে যখন বিপুল সম্পদ ও ভোগবিলাসের প্রাচুর্য, তখন খাদ্যের অভাবে বহু মানুষ হাহাকার করছেন। সমাজের এই নির্মম বৈপরীত্য এবং আর্থ–সামাজিক বৈষম্যকে দুর্গাপুজোর মণ্ডপে তুলে ধরেছে হাওড়ার আন্দুল রোডের পোদরা অঞ্চলের নতুন পল্লি সেবা সমিতি। ৩৮–তম বর্ষে তাঁদের এ বারের পুজোর ভাবনা ‘আর্তনাদ’। দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের জীবন–যন্ত্রণার কথাই তুলে দেওয়া হয়েছে গোটা মণ্ডপ জুড়ে।
উদ্যোক্তারা জানাচ্ছেন, একটি দরিদ্র পরিবারের চার প্রজন্মের জীবন যন্ত্রণার ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই পুজো মণ্ডপে। যাঁরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে জীবনধারণ করতে বাধ্য হচ্ছেন। তার সঙ্গে রয়েছে আর এক শ্রেণির মানুষের জীবনযাপনের ছবি, যাঁদের হাতে বিপুল সম্পদ ও ভোগবিলাসের উপকরণ রয়েছে। সমাজের এই বৈষম্যকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরতে মানুষের শরীরের সঙ্গে ব্যাঙের মুখের অবয়ব ব্যবহার করা হয়েছে। খাদ্যের অভাবে মানুষের হাহাকারের দৃশ্যও সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এক দিকে ক্ষুধার্ত মানুষের অসহায় মুখ, অন্য দিকে প্রচুর খাদ্যসম্পদ মজুত করে রাখার ছবি, এই দুই বিপরীতধর্মী ছবিকে মণ্ডপে হাজির করেছেন শিল্পীরা। অনাহারে থাকা রুগ্ন শিশুদের ঘিরে শকুনের উপস্থিতি এক অন্য মাত্রা এনে দিয়েছে। পুরোনো জং ধরা টিন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে দোতলা বস্তির ঘর। মণ্ডপ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে হোগলা পাতা। প্রচলিত দশভুজা রূপের বদলে এখানে দেবী দুর্গাকে দ্বিভুজা রূপে উপস্থাপিত করা হয়েছে। দেবীমূর্তিটি কালো রঙের। সঙ্গে রয়েছেন তাঁর চার সন্তান।
পুজো কমিটির যুগ্ম সম্পাদক রামচন্দ্র রায় ও সুমন বসু জানান, এ বারের পুজোর অন্যতম বড় প্রাপ্তি এলাকার জেন-জি তথা তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ। পুজোর পরিকল্পনা থেকে শুরু করে সমস্ত কাজে এগিয়ে এসেছেন নতুন প্রজন্মের ছেলে–মেয়েরা। এই পুজোর সূচনা হয়েছিল ৩৮ বছর আগে। পুজো আয়োজনের পাশাপাশি তাঁরা বরাবরই এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন ও সমাজসেবামূলক কাজ করে থাকেন। প্রতি বছর দুঃস্থ ও গরিব মহিলাদের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দেন তাঁরা।
