সংবাদ · দেশ
কোন দেশে কী নিয়ে চলছে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ
২৫/১০/২০২৬

বিশ্বজুড়ে যেন বিক্ষোভের নতুন ঢেউ। কানাডা থেকে ইউরোপ, ল্যাটিন আমেরিকা থেকে দক্ষিণ এশিয়া—বিভিন্ন দেশে রাস্তায় নেমেছেন সাধারণ মানুষ। কোথাও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি আর মুদ্রাস্ফীতির চাপ, আবার কোথাও সরকারের দুর্নীতি, নাগরিক স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা কিংবা রাজনৈতিক জবাবদিহির দাবি।মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা থেকে শুরু করে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি এই বিক্ষোভগুলোকে আরও তীব্র করেছে। চলতি মাসে এসব বিক্ষোভে কোথাও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, তো কোথাও গঠনমূলক প্রতিবাদের মাধ্যমে দাবি জানানো হচ্ছে।সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলমান বিক্ষোভ ও আন্দোলনগুলো একটি নির্দিষ্ট তালিকায় উঠে এসেছে। কোথাও আন্দোলন চলছে শিক্ষা ও আবাসন সংকট নিয়ে, আবার কোথাও প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে।চলুন, জেনে নেওয়া যাক কোন দেশে কী নিয়ে চলছে বিক্ষোভ—১. ফ্রান্স: স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক এবং পরিকাঠামোর অভাব, মজুরি ও পেনশন নিয়ে অসন্তোষ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি পরিষেবার অবনতির প্রতিবাদে ছাত্রছাত্রী ও শ্রমিকেরা আন্দোলন করছেন। ২৪ অক্টোবর দেশজুড়ে কয়েক লক্ষ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।২. আলবেনিয়া: দুর্নীতির অভিযোগ, রাজনৈতিক সংকট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ও ছাত্রছাত্রীরা রাস্তায় নেমেছেন। আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবি প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগ।৩. সার্বিয়া: সরকারি দুর্নীতির অভিযোগ, প্রশাসনের জবাবদিহি এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে ছাত্রছাত্রীরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন। ২০২৪ সালে নোভি সাদে রেলস্টেশনের ছাউনি ভেঙে পড়ে বহু মানুষের মৃত্যুর পর এই আন্দোলন আরও জোরালো হয়।৪. ভারত: ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ, পরীক্ষায় অনিয়ম, বেকারত্ব এবং রাজনৈতিক জবাবদিহির দাবিতে বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ হচ্ছে। তবে এই দাবিগুলি নিয়ে আন্দোলন বিভিন্ন এলাকায় আলাদা আলাদাভাবে চলছে।৫. ইতালি: জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি, সরকারি পরিষেবার অবনতি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ করছেন। মিলানে ১৭ অক্টোবরের প্রতিবাদের সময় পুলিশের সঙ্গে কিছু বিক্ষোভকারীর সংঘর্ষ এবং দোকানপাটে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।৬. পর্তুগাল: বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, সাশ্রয়ী আবাসনের অভাব এবং কম মজুরির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করছেন। লিসবন ও পোর্তোয় বিক্ষোভকারীরা তাঁবু খাটিয়ে আবাসন সংকটের দিকে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।৭. স্পেন: বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, আবাসনের অভাব এবং উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে। সাধারণ মানুষের দাবি, সরকারকে এমন ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে স্বল্প আয়ের মানুষও শহরে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতে পারেন।৮. বেলজিয়াম: শিক্ষা খাতে সরকারি বরাদ্দ কমানোর পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক এবং অন্যান্য প্রতিবাদকারীরা বিক্ষোভ করেছেন। তাঁদের দাবি, শিক্ষাব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।৯. তিউনিসিয়া: জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, নাগরিক স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা এবং বন্দি সরকার-সমালোচকদের মুক্তির দাবিতে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন প্রতিবাদ করেছেন।১০. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অভিবাসন নীতি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে উদ্বেগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে। ১৭ অক্টোবর বিভিন্ন শহরে ‘নো কিংস’ আন্দোলনের কর্মসূচি পালিত হয়।১১. আর্জেন্টিনা: সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ বরাদ্দ এবং শিক্ষা খাতে ব্যয় নিয়ে অসন্তোষের কারণে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করেছেন। তাঁদের দাবি, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির জন্য পর্যাপ্ত অর্থ নিশ্চিত করতে হবে।১২. মরিশাস: জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং জলসংকটের বিরুদ্ধে মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। পানীয় জল সরবরাহের সমস্যা ও সরকারি পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ এই প্রতিবাদের অন্যতম কারণ।১৩. ইন্দোনেশিয়া: বনভূমিতে আগুন, ধোঁয়ায় পরিবেশদূষণ, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে ছাত্রছাত্রী ও পরিবেশকর্মীরা প্রতিবাদ করেছেন। তাঁদের দাবি, বনভূমির আগুনকে জাতীয় বিপর্যয় হিসেবে ঘোষণা করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।১৪. কলম্বিয়া: সরকারের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা নীতি নিয়ে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। তবে সব প্রতিবাদ একই দাবিকে কেন্দ্র করে হচ্ছে না; বিভিন্ন সংগঠন আলাদা আলাদা বিষয়ে সরকারের বিরোধিতা করছে।১৫. পাকিস্তান: প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তি এবং রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে তাঁর সমর্থকেরা প্রতিবাদ করছেন। তবে ২৪ অক্টোবরেও দেশজুড়ে একই মাত্রায় আন্দোলন চলছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।১৬. চিলি: শিক্ষা খাতে সরকারি বরাদ্দ কমানোর আশঙ্কায় ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলি প্রতিবাদ করেছে। তাঁদের দাবি, শিক্ষাব্যবস্থার অর্থায়ন কমানো চলবে না।১৭. যুক্তরাজ্য: গাজায় ইজরায়েলের সামরিক অভিযান এবং প্যালেস্টাইন অ্যাকশন সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে। এই আন্দোলন মূলত সরকারের বিদেশনীতি ও প্রতিবাদের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত।বিশ্লেষকদের মতে, এই বিক্ষোভগুলো আসলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, রাজনৈতিক হতাশা এবং নাগরিকদের আস্থার সংকটের বহিঃপ্রকাশ। অনেক দেশে সরাসরি সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং নির্দিষ্ট সরকারি নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ একইসঙ্গে চলছে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗