সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের তথাকথিত ‘সাফল্যে’র পর এবার কোন পথে ইন্ডি জোটের জ্ঞানেশ কুমার বিরোধী বিক্ষোভ? রাহুল গান্ধীর বাড়িতে ইন্ডি জোটের শীর্ষ নেতাদের চা চক্রেই স্থির হয়ে গেল রণকৌশল। বৈঠক শেষে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী দাবি করলেন, “জ্ঞানেশদের ঘিরে জাল গুটিয়ে আসছে। আগামী দিনে চাপ আরও বাড়ানো হবে।” কিন্তু আগামী দিনে কোন কৌশলে বিক্ষোভ দেখাবে ইন্ডি জোট? সেটা এখনই প্রকাশ্যে আনতে চান না রাহুল। তাঁর দাবি, আন্দোলনের রূপরেখায় তিনি সাসপেন্স রাখতে চান।
এদিন রাহুল গান্ধীর বাড়িতে হাই টি-তে এদিন ইন্ডি ব্লকের প্রায় সব দলের নেতাই উপস্থিত ছিলেন। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ছিলেন দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সোনিয়া গান্ধী, কেসি ভেনুগোপাল, জয়রাম রমেশরা। সিপিএমের এম এ বেবি, সিপিআইয়ের ডি রাজা, সিপিআই(এমএল)-এর দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, আরজেডির তেজস্বী যাদব ও মনোজ ঝা, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার মহুয়া মাজি, সমাজবাদী পার্টির হরেন্দ্র মালিক, আইসা নেত্রী নেহা বোরা-সহ একাধিক শীর্ষ বিরোধী নেতা।
ওই চা চক্র শেষে ইন্ডি জোটের শীর্ষ নেতারা সমস্বরে দাবি করলেন, আগামী দিনে ঐক্যবদ্ধভাবে জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর দাবিতে বিক্ষোভ চালাবেন তাঁরা। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জানান, প্রথম বার দিল্লিতে এত রাজনৈতিক দল, সংগঠনের সদস্য সদস্য জড়ো হয়েছেন। সবটাই দেশ বাঁচানোর লক্ষ্যে। রাহুল গান্ধী জানান, ‘‘আমরা সকলে একজোট। আর কোনও সমান্তরাল প্রতিবাদ কর্মসূচি নেই। কর্মসূচি একটাই। আমাদের লক্ষ্য হল, দেশে গণতন্ত্র আবার প্রতিষ্ঠা করা।’ অর্থাৎ বিরোধীরা যে আলাদা করে কোনও কর্মসূচি করবেন না সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন রাহুল।
এই মুহূর্তে দেশে উৎসবের মরশুম চলছে। এই পরিস্থিতিতে রোজ প্রচুর লোক জড়ো করে বিক্ষোভ দেখালে ব্যবসার যেমন ক্ষতি তেমনই সমস্যায় পড়তে হয় আমজনতাকেও। এই পরিস্থিতিতে নবরাত্রি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আর বড় জমায়েত নাও করতে পারে ইন্ডিয়া জোট। এদিনের বৈঠকে সে নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে খবর। যদিও সাংবাদিক সম্মেলনে রাহুল গান্ধী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই লড়াই চলতে থাকবে। আগামী দিনে বিক্ষোভের ধরনেও যে অভিনবত্ব আসবে সেটার ইঙ্গিতও তিনি দিয়েছেন। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এদিন সুপ্রিম কোর্টের উপর আস্থা দেখিয়েছেন রাহুল। বিরোধী দলনেতা বলেছেন, “এই লড়াইয়ে সুপ্রিম কোর্টেরও ভূমিকা রয়েছে। আমরা শীর্ষ আদালতকে সম্মান করি।”
