বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মৌলভীবাজার জেলা শাখার আয়োজনে ওয়ার্ড দায়িত্বশীল সম্মেলন সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
জেলা জামায়াতের আমীর ইঞ্জিনিয়ার এম সায়েদ আলীর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারী মোঃ ইয়ামীর আলীর সঞ্চালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী এড. এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন ওয়ার্ডের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। দিনব্যাপী এই সম্মেলনে সাংগঠনিক পর্যালোচনা, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন এবং জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান ও ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি তৃণমূল পর্যায়ের দায়িত্বশীলদেরকে জনগণের দুঃখ-দুর্দশায় পাশে দাঁড়ানো, দাওয়াতি কাজ সম্প্রসারণ এবং সংগঠনের শৃঙ্খলা ও ঐক্য রক্ষার নির্দেশনা দেন।
বিশেষ অতিথি এড. এহসানুল মাহবুব জুবায়ের তাঁর বক্তব্যে ওয়ার্ড পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার কৌশল, কর্মী গঠন, সাংগঠনিক রিপোর্টিং এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনসংযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি দায়িত্বশীলদেরকে আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
সম্মেলনে উপস্থিত বক্তারা সংগঠনের সাংগঠনিক শক্তি সুদৃঢ়করণ, তৃণমূল পর্যায়ে দাওয়াতি কাজ সম্প্রসারণ, যুবসমাজকে নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করা এবং জনগণের সার্বিক কল্যাণে কাজ করার ওপর জোর দেন। এছাড়া ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনে করণীয়, সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধানের উপায় নিয়ে মুক্ত আলোচনা হয়।
সম্মেলন শেষে আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের দায়িত্বশীলদেরকে নিজ নিজ দায়িত্ব আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের আহ্বান জানানো হয়।
এই সম্মেলন কেবল একটি সাংগঠনিক কার্যক্রম নয়; বরং তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্ব বিকাশ, দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা এবং জনগণের পাশে দাঁড়ানোর দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রকাশ। জামায়াতে ইসলামী মৌলভীবাজার জেলা শাখার এই উদ্যোগ সংগঠনের ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং আগামী দিনে গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সমাজের নৈতিক পুনর্জাগরণ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এটাই সকলের প্রত্যাশা।
