বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির গোপন পরিকল্পনা নিয়ে ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ক্ষমা চাইলেও সন্তুষ্ট হতে পারেননি তার সমালোচকেরা।
বৃহস্পতিবার জুরিখে ফিফার কাউন্সিলের সভায় ‘ভুলের’ দায় স্বীকার করলেও বিতর্কিত পরিকল্পনা ও বিশ্বকাপে ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি। এতে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে ইউরোপীয় ফুটবল কর্মকর্তাদের অসন্তোষ আরও বেড়েছে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার জুরিখে সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠকে ইনফান্তিনোর কাছে দুটি বিতর্কিত বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছিলেন কাউন্সিলের সদস্যরা। প্রথমটি, ৪২০ কোটি ডলারের বিশ্বকাপ বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা, যা জুলাইয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে বাতিল করা হয়। দ্বিতীয়টি, বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের ঘটনা, যেখানে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের বিষয়টি আলোচনায় আসে।
কিন্তু বৈঠক শেষে ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা জানান, তাদের প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি। জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান ও ফিফা কাউন্সিল সদস্য বের্ন্ড নয়েনডর্ফ বলেন, ‘কোনো সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি।’
বিজ্ঞাপন
ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান ও ফিফার সহসভাপতি ডেবি হিউইটও ইনফান্তিনোর ভূমিকা নিয়ে কঠোর অবস্থান জানান। তার মতে, প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার দায়িত্ব ফিফা সভাপতির। হিউইট বলেন, ‘তিনি যদি এসব প্রশ্নের উত্তর না দেন, তাহলে ফিফার সভাপতি হওয়ার যোগ্য নন।’ তবে ইনফান্তিনো ক্ষমা চাওয়ার সময় কিছুটা অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন বলেও জানান তিনি।
ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষের মধ্যেই আগামী মার্চে ফিফা সভাপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। ১৮ মার্চ মরক্কোর রাজধানী রাবাতে হবে নির্বাচন। ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মনোনয়নের সুযোগ থাকছে। ইনফান্তিনোর বিরোধীরা এর মধ্যেই তার বিরুদ্ধে বিকল্প প্রার্থী দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন।
তবে আফ্রিকার ফুটবল প্রশাসকদের সমর্থন এখনো ইনফান্তিনোর বড় শক্তি। ফিফা কাউন্সিল সদস্য ও মৌরিতানিয়া ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান আহমেদ ইয়াহইয়া বলেন, ‘আমাদের কাছে মূল বিষয় হলো, আমরা মনে করি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোই ফুটবলের নেতৃত্ব চালিয়ে যাওয়ার জন্য সঠিক ব্যক্তি।’
বিজ্ঞাপন
সদস্য দেশগুলোর সমর্থন ধরে রাখতে আগামী চার বছরে ফিফার ২১১টি সদস্য ফেডারেশনের প্রতিটিকে অতিরিক্ত দেড় কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাবও এগিয়েছে। এর আগে ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রতিটি সদস্য ফেডারেশনের জন্য এক কোটি ডলার করে বরাদ্দ নিশ্চিত ছিল।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির ৩৭ সদস্যের কাউন্সিলই ফিফার প্রধান সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পরিষদ। এর সদস্যদের অধিকাংশ নিজ নিজ দেশের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি। প্রত্যেক কাউন্সিল সদস্য বছরে আড়াই লাখ ডলার ভাতা পান। মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর সভাপতিরা পান তিন লাখ ডলার করে।
বিজ্ঞাপন
আগামী ১৬ ডিসেম্বর কাতারের দোহায় ফিফা কাউন্সিলের পরবর্তী সভা হওয়ার কথা। ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ফিফার বিশেষ কংগ্রেস। সেখানে ২০৩১ ও ২০৩৫ নারী বিশ্বকাপের আয়োজক নিশ্চিত করা হবে। ২০৩১ সালের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কোস্টারিকা ও জ্যামাইকার যৌথ প্রস্তাব এবং ২০৩৫ সালের জন্য যুক্তরাজ্যের চারটি ফুটবল ফেডারেশনের প্রস্তাবই একমাত্র বিড।
এমএমআর
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
