ভ্রমণের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় জামাকাপড় গুছিয়ে নেওয়ার পর, প্রয়োজনীয় ওষুধগুলো অবহেলা করে যেকোনো একটি ব্যাগে ঢুকিয়ে নেওয়া হয়। তবে ভ্রমণের সময় সঠিক জায়গায় ওষুধ না রাখলে সেগুলোর কার্যকারিতা হারাতে পারে, এমনকি শরীরে বিষক্রিয়া বা অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।
স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘হেলথ’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন ৫টি জায়গার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ভ্রমণের সময় ভুলেও ওষুধ রাখা উচিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ কেট কোলবি এবং স্বাস্থ্য গবেষক শেরি গর্ডনের মতে- অতিরিক্ত আর্দ্রতা, তীব্র সূর্যালোক এবং ভুল তাপমাত্রার সংস্পর্শে এলে ওষুধের রাসায়নিক উপাদানগুলো দ্রুত ভেঙে যায়।
প্লাস্টিকের পলিব্যাগে বা আলগা অবস্থায়
ভ্রমণের সময় জায়গা বাঁচানোর জন্য অনেকেই বিভিন্ন স্ট্রিপ বা বোতল থেকে ওষুধ বের করে একটিমাত্র প্লাস্টিকের জিপলক ব্যাগে আলগা করে ভরে নেন। চিকিৎসকদের মতে এটি ঝুঁকিপূর্ণ।
ভ্রমণের ক্লান্তি বা তাড়াহুড়োর সময় ট্যাবলেটের রং ও আকৃতি গুলিয়ে ফেলে ভুল ওষুধ বা ভুল ডোজ খেয়ে ফেলার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া প্লাস্টিকের ব্যাগে ওষুধ সহজে ভেঙে বা গুঁড়ো হয়ে যেতে পারে।
সমাধান: ওষুধ সবসময় নিজস্ব মূল পাতা (ব্লিস্টার প্যাক) বা বোতলে রাখতে হবে। এটি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা চেকিংয়ের সময় আইনি ঝামেলা থেকেও বাঁচাবে।
হোটেলের বাথরুম
বাড়িতে হোক বা হোটেলে, অনেকেই বাথরুমের ক্যাবিনেটে ওষুধ সংরক্ষণ করেন। তবে ওষুধের প্রধান শত্রু হল, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ।
বাথরুমে গোসল বা বেসিনের ব্যবহারের কারণে অনবরত গরম ভাপ ও আর্দ্রতা তৈরি হয়, যা ওষুধের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।
সমাধান: হোটেলের শোবার ঘরের শুকনো ড্রয়ারে, টেবিলের ওপর অথবা নিজের মূল ট্রাভেল ব্যাগে ওষুধ রাখতে হবে। যদি ‘জেনাক্স’ বা ‘অ্যাডারল’-এর মতো কোনও প্রেসক্রিপশন-নিয়ন্ত্রিত ওষুধ থাকে, তবে তা হোটেলের লকার বা সেফ-এ রাখা নিরাপদ।
তবে ব্যবহারের আগে ওষুধের প্যাকেটের গায়ে থাকা নির্দেশনার সঙ্গে নির্দেশনা মতো সঠিক ডোজটি নিশ্চিত করে নিন।
বিমানের চেকড লাগেজ
বিমানে ভ্রমণের সময় ভুলেও জীবনরক্ষাকারী ওষুধগুলো বড় ট্রাঙ্ক বা চেকড লাগেজে দেওয়া যাবে না। বিমানের কার্গো হোল বা মালামাল রাখার স্থানে তাপমাত্রা অনেক সময় হিমাঙ্কের নিচে নেমে যায় বা অতিরিক্ত গরম হয়ে পড়ে। এছাড়া লাগেজ হারিয়ে যাওয়া বা পৌঁছাতে দেরি হওয়ার ঝুঁকি তো থাকেই।
সমাধান: সমস্ত প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং ইনহেলার হ্যান্ডব্যাগ বা ‘ক্যারি-অন’ ব্যাগে নিজের কাছে রাখতে হবে।
সরাসরি সূর্যের আলোতে
তীব্র রোদ ও অতিবেগুনি রশ্মি ওষুধের রাসায়নিক কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়। বিশেষ করে কিছু তরল ওষুধ ও ইনজেকশন সরাসরি আলোর সংস্পর্শে এলে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।
সমাধান: গাড়ি বা হোটেলের জানালার পাশে ওষুধ রাখা যাবে না। বাইরে ঘোরার সময় ব্যাগটি যেন সরাসরি রোদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ পড়ে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
গাড়ির গরম ড্যাশবোর্ড বা ট্রাঙ্ক
রোদ উজ্জ্বল দিনে বন্ধ গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা বাইরের চেয়ে অনেক গুণ বেড়ে যায়। গাড়ির গ্লাভ বক্স, পেছনের ট্রাঙ্ক বা এসির ভেন্টের পাশে ওষুধ রাখলে অতিরিক্ত তাপে নষ্ট হয়।
সমাধান: ওষুধগুলো একটি ছোট হ্যান্ডব্যাগে ভরে গাড়ির পেছনের সিটে রাখতে হবে, যাতে সরাসরি রোদ ও এসির গরম ভেন্ট থেকে দূরে থাকে। আর যদি ‘ইনসুলিন’ বা ‘জিএলপি-১’-এর মতো জীবনরক্ষাকারী ইনজেকশন বহন করতে হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেটিকে অবশ্যই ‘কোল্ড প্যাক’ বা ‘মিনি কুলার’ ব্যাগে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হবে।
