প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফর ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্নাইপার দিয়ে গুলি করার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগে গ্রেপ্তার আবু বকর সিদ্দিকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত এ রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক মো. ইয়াছিন পাইক সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
শুনানিতে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন এর সাথে কারা কারা যুক্ত, স্নানাইপারের সাথে তার কোন সম্পর্ক আছে কি না নিষিদ্ধ ঘোসিত কোন সংগঠনের সাথে যুক্ত আছে কি না তা বের করার জন্য আসামীর সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।
বিচারকের প্রশ্নে আসামী আবুবকর সিদ্দিক বলেন, আমি এমনে করেছি কোন উদ্দেশ্য ছিল না মজা করে করেছি।
আসামীপক্ষের কোন আইনজীবী ছিলেন না
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারির সময় ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি ফেসবুক গোষ্ঠীতে একটি পোস্ট শনাক্ত করে। পোস্টটিতে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একটি বাসের ছবি ছিল।
ওই ছবির নিচে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে মন্তব্য করা হয়, ‘ইস একটা বড় সুযোগ ছিলো, শুধু একটা স্নাইপার এর অভাব ছিলো।’ মন্তব্যটি নজরে আসার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয় বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে ডিবি পুলিশ ও রাজশাহী মহানগর পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৫টর দিকে রাজশাহীর পবা থানার ঘোল হাড়িয়া দক্ষিণপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে আবু বকর সিদ্দিক ও তার বাবা মো. আয়নাল হককে আটক করে।
অভিযানের সময় আবু বকর সিদ্দিকের কাছ থেকে একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজের ব্যবহৃত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে মন্তব্যটি করার কথা স্বীকার করেছেন তিনি। তবে তার বাবা ওই মন্তব্য বা সংশ্লিষ্ট ঘটনা সম্পর্কে জানেন না বলে প্রাথমিক যাচাইয়ে উঠে আসায় তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
এর আগে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান আবু বকর সিদ্দিককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
