ফ্রান্সের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের জানমাল ও সম্পদ রক্ষার স্বার্থে কিছু শহরে মেয়রদেরকে আংশিকভাবে কারফিউ জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু। তিনি বলেন, সরকার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোকে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করবে এবং এই তহবিল সহিংসতার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকেই আসবে। এমন একটি আইন প্রণয়ন করা হবে, যার মাধ্যমে এটা নিশ্চিত করার উপায় বের করা হবে যে, যারা সম্পদের ক্ষতি করেছে, তাদেরকেই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। দাঙ্গা ও লুটপাটের ফলে যারা কাজ হারিয়েছেন, তাদের জন্য একটি ‘আংশিক বেকারত্ব তহবিল’ গঠনের ঘোষণাও দিয়েছে ফ্রান্স সরকার।
বিক্ষোভে ‘নিয়ন্ত্রণহীন’ সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, শনিবারের সহিংসতায় প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সামপ্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে ঘটা সবচেয়ে ভয়াবহ নগর সহিংসতার ঘটনাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। এতে প্রায় ১ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা গুরুতর।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ম্যাক্রোঁ বলেন, আগামী কয়েক দিনে প্রয়োজন মনে করলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট কিছু সমাবেশ নিষিদ্ধ করতে পারবে। তবে তিনি জরুরি অবস্থা জারির মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেননি। বিক্ষোভে সৃষ্ট ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কথা উল্লেখ করে ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘আজ রাতে আমরা সবাই ক্ষোভ ও লজ্জা অনুভব করছি।’ এসব ঘটনায় বিভিন্ন শহরের পৌরসভা ভবনে আগুন দেওয়া হয়েছে। শত শত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালানো হয়েছে বা সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ছবি দেখে আমরা সবাই নিজেদের প্রশ্ন করেছি–তাদের মনে কী চলছে? ফরাসিরা কীভাবে ফ্রান্সের সঙ্গে এমন করতে পারে?’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘যৌক্তিক দাবি’ নিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যারা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, ভাঙচুর করেছে ও লুটপাট করেছে, তাদের পার্থক্য করতে হবে।
ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘কট্টর বামপন্থী গোষ্ঠীর উসকানিদাতাদের’ বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ কোনো ধরণের ছাড় দেবে না। তার ভাষায়, এসব গোষ্ঠীর সঙ্গে বিপুলসংখ্যক অপরাধী যোগ দিয়ে শহরগুলোতে নিয়ন্ত্রণহীন সহিংসতা ছড়িয়েছে।
চলমান বিক্ষোভ, দাঙ্গা, লুটপাটসহ সামগ্রিকভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য উগ্র–বামপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নুও। এর বিরুদ্ধে প্যারিসে অভিযান শুরু হচ্ছে বলে জানিয়ে তিনি বলেছেন, অভিযানে দুইশ’ কর্মকর্তা অংশ নিবেন, যারা সহিংসতার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দায়ীদের চিহ্নিত করবেন।
