স্বামী মারা গেছেন পাচ বছর আগে। ১২ বছর বয়সী মেয়ে ও ৫ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দিন কাটছে ৩২ বছর বয়সী এক বিধবা নারীর। এরই মধ্যে এক প্রতিবেশী ও স্থানীয় মাতবরের বিরুদ্ধে কুপ্রস্তাব, অর্থের প্রলোভন দেখানো এবং মধ্যরাতে ঘরের পেছনের দরজা খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। নিজের ও দুই সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নেছারাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই নারী।
অভিযুক্ত মো. আবুল কালামের (৫২) বাড়ি পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের বিন্না গ্রামে। এলাকায় তিনি মাতবর হিসেবে পরিচিত বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন ওই নারী।
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে আত্মীয়স্বজনের সহযোগিতায় দুই সন্তানকে নিয়ে সংসার চালিয়ে আসছেন তিনি। গত দুই মাস ধরে আবুল কালাম বিভিন্ন সময়ে তার বাড়িতে গিয়ে কুপ্রস্তাব দিতেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারী। সাংসারিকভাবে সহযোগিতার কথা বলে অর্থের প্রলোভন দেখানোর পাশাপাশি রাতে বাড়িতে আসতে চাওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি। প্রস্তাবে রাজি না হলে সামাজিকভাবে হেয় করা ও মানসম্মানের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ তার।
অভিযোগে বলা হয়, গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর আনুমানিক পৌনে একটার দিকে ওই নারী বাড়িতে রান্না করছিলেন। এ সময় আবুল কালাম তাকে ডেকে হাতে ১০০ টাকার একটি নোট দেন। রাত ১২টার দিকে তিনি আসবেন জানিয়ে ঘরের পেছনের দরজা খোলা রাখতে বলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই নারী টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্ত তার হাত ধরে টানাটানি করেন এবং জোর করে টাকা দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর দাবি, ওই দিন দিবাগত রাত ১২টার পর আবুল কালাম তার বসতঘরের চারপাশে ঘোরাঘুরি করেন, ডাকাডাকি করেন এবং বেড়া ও দরজায় টানাটানি করেন। ভয়ে তিনি দরজা খোলেননি। পরে শ্বশুরকে ফোন করে ডাকলে তিনি বাড়িতে আসার বিষয়টি টের পেয়ে অভিযুক্ত চলে যান বলে দাবি করেন ওই নারী।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী বলেন, আমার স্বামী নেই, ছোট দুটি সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাই। ভয়ে এত দিন মুখ খুলিনি। আমি ও আমার সন্তানরা নিরাপদে বাচতে চাই। একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি যদি এভাবে হয়রানি করেন, তাহলে আমরা কার কাছে বিচার চাইব?
ভুক্তভোগীর শ্বশুর মো. হানিফ মিয়া জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পুত্রবধূর ফোন পেয়ে বাড়িতে ফিরে বিষয়টি জানতে পারেন। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাবুল মিয়াকে ঘটনাটি জানান। তিনি বলেন, তারা অসহায় মানুষ। এ ঘটনায় পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাবুল মিয়া বলেন, ওই নারী ও তার শ্বশুর তাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। পরে তিনি তাদের বাড়িতে গিয়ে ঘটনা শুনেছেন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগেও এ ধরনের অভিযোগ ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবুল কালাম। তার দাবি, এলাকায় সালিশ করেন বলে তার অনেক শত্রু তৈরি হয়েছে। ওই নারী তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
