Published on
:
1 min read
বিজয়াদশমী বা দশেরা মানেই দেশ জুড়ে অধর্মের বিরুদ্ধে ধর্মের জয় এবং অশুভ শক্তির বিনাশ। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে মহাসমারোহে এই উৎসব পালিত হয়। সন্ধ্যায় রাবণের কুশপুত্তলিকা দাহ বা ‘রাবণ দহন’-এর মাধ্যম শ্রীরামচন্দ্রের জয় উদ্যাপন করা হয়। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের কানপুরে এই দশেরায় দেখা যায় অন্য এক ছবি। সেখান বিজয়াদশমীর দিনে লঙ্কাপতি রাবণের পুত্তলিকা দাহ করার বদলে সাড়ম্বরের তার পুজো করা হয়। কানপুরের শিবালা এলাকায় অবস্থিত ১৩৬ বছরের প্রাচীন ‘দশানন মন্দির’-এ এই অদ্ভুত ও বিরল ঐতিহ্য আজও পালিত হয়ে আসছে। এই মন্দির বছরে ৩৬৪ দিন বন্ধ থাকে, কেবল দশেরার দিন সকালে সর্বসাধারণের জন্য দরজা খুলে দেওয়া হয়।
ইতিহাস বলছে, ১৮৯০ সালে কানপুরের প্রতিবেশী উন্নাও জেলার বাসিন্দা এবং পরম শিবভক্ত মহারাজ গুরু প্রসাদ শুক্লা এই দশানন মন্দিরটি স্থাপন করেছিলেন। রামায়ণে রাবণকে খলনায়ক হিসেবে দেখা হলেও, শাস্ত্র অনুযায়ী তিনি ছিলেন অতীব বিদ্বান, মহাজ্ঞানী পণ্ডিত এবং ভগবান শিবের পরম ভক্ত। শিবালা এলাকার ছিন্নমস্তিকা দেবী মন্দির ও এক শিবালয়ের কাছে অবস্থিত এই দশানন মন্দিরটিতে রাবণের সেই পণ্ডিত রূপ ও শিবভক্তিকেই পুজো করা হয়।
এই মন্দিরের প্রধান আকর্ষণ হলো রাবণের ৫ ফুট উঁচু বিশেষ বিগ্রহ। স্থানীয় বিশ্বাস, রাবণের বন্দিদশার প্রতীক হিসেবে বছরের ৩৬৪ দিন ওই মূর্তি কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। বিজয়াদশমীর দিন সকালে মন্দিরের দরজা খুলে মূর্তির কাপড় সরানো হয়। পুণ্যার্থীরা ‘লঙ্কাপতি নরেশ রাবণ কি জয়’ ধ্বনি দিয়ে প্রদীপ জ্বালান এবং জ্ঞান ও শক্তির কামনায় পুজো দেন। সন্ধ্যায় যখন কানপুর জুড়ে রাবণ দহনের প্রস্তুতি চলে, তখন বিশেষ আরতির পর মন্দিরের দরজা আবার আগামী এক বছরের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।