দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গত মঙ্গলবারের রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সফর এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের বিষয়টিকে ভারতীয় গণমাধ্যমে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করা হয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, হিন্দুস্তান টাইমস, উইয়ন, এএনআই এবং আনন্দবাজারসহ শীর্ষস্থানীয় ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এসব প্রতিবেদনে মূলত প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি, নিরাপত্তাব্যবস্থা, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সমঅধিকারবিষয়ক বক্তব্য
এবং বর্তমান সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন সিদ্ধান্তের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনগুলোতে জানানো হয়েছে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা থেকে বিমানে রংপুরে যান এবং সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সফর করেন। বিগত ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি যখন বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছিল, ঠিক সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর এই মাঠপর্যায়ের সফর এবং সরাসরি মণ্ডপ পরিদর্শনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এবং আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে গত ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। আনন্দবাজার পত্রিকা তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছিল; তবে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি কিছুটা হলেও উন্নত হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের একাংশের অভিমত। অন্যদিকে, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায় যে, ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার ঘটনা এবং তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে নয়াদিল্লি ধারাবাহিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিল, আর সেই প্রেক্ষাপটে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর এ সফরটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, রংপুরের ঐতিহাসিক রাধা গোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে আরও সুদৃঢ় করবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিল। সংবাদমাধ্যমগুলোতে তার এই বক্তব্যটি বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে যেখানে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়, মতামত, ধর্ম কিংবা জাতিসত্তা নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য একটি কল্যাণমুখী, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
গণমাধ্যমের খবরে আরও বলা হয়, বর্তমান সরকার সংখ্যালঘুদের উৎসব উদযাপনে কেবল মৌখিক আশ্বাসই দেয়নি, বরং বাস্তব ক্ষেত্রেও ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দ্য হিন্দু ও ডব্লিউআইওএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্গাপূজায় সরকারি আর্থিক অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কঠিন চীবর দান উৎসবের জন্য ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ছুটির বিষয়টিও গণমাধ্যমের নজর কেড়েছে; সরকারের পক্ষ থেকে দুর্গোৎসবে টানা তিন দিনসহ মোট পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, যা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের একটি দাবির বাস্তবায়ন বলে হিন্দুস্তান টাইমসে বলা হয়েছে।
