মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নারাইনপাশা এলাকার চা বিক্রেতা দুরুদ মিয়াকে পাওনা টাকার জন্য নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর সাত আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক শামসাদ বেগম এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম ছাদিক মিয়া।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০০৮ সালের ১২ জুন সকালে নারাইনপাশা এলাকার চায়ের দোকানদার দুরুদ মিয়া আসামি ছাদিক মিয়ার কাছে তার পাওনা এক হাজার ২৬৩ টাকা দাবি করেন। পাওনা টাকা চাওয়ায় ছাদিক মিয়া চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। কিছুক্ষণ পর তিনি দলবল নিয়ে ফিরে এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুরুদ মিয়ার ওপর হামলা চালান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুরুদ মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ওই দিন রাত সাড়ে ১১টায় নিহতের ছেলে মকবুল মিয়া বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামি ছাদিক মিয়ার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। অন্যদিকে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় তছকির মিয়া, সিরাজ মিয়া, নুরুল ইসলাম, ছাইফুর রহমান, আতাউর রহমান, শফিক মিয়া ও আছাব মিয়াকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। মামলায় বাদীপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট মো. বিল্লাল হোসেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ড. আব্দুল মতিন চৌধুরী এবং অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট নিয়ামুল হক জানান, বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করে প্রকৃত আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হওয়ায় বিচারপ্রার্থী জনগণের আইনের প্রতি আস্থা বাড়বে। রায় ঘোষণার পর নিহতের স্বজনেরা ন্যায়বিচার পাওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। অন্যদিকে মৃত্যুদণ্ডের রায় শুনে আদালতের বারান্দায় কান্নায় ভেঙে পড়েন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও তার স্বজনেরা।
