ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেও তাঁর পুনর্নির্বাচনের পক্ষে সরাসরি সমর্থন জানাননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের নিরাপত্তায় মার্কিন সমর্থনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেও দেশটির আসন্ন নির্বাচনে কে ক্ষমতায় আসবেন, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো পক্ষ নেননি তিনি। আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পের এ অবস্থান দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
গত ১ অক্টোবর টাইম সাময়িকীকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুর পুনর্নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি শুধু বলতে পারি, আমি আর রাজনীতিতে জড়িত নই।’ তাঁর এ বক্তব্যকে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বজায় রেখেও দেশটির নির্বাচনী রাজনীতি নিয়ে সরাসরি অবস্থান এড়িয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত এতে পাওয়া যায়।
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্কে মতপার্থক্যের অন্যতম ক্ষেত্র গাজা যুদ্ধবিরতি। ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ কার্যকর হলেও হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং গাজার পুনর্গঠন নিয়ে অগ্রগতি সীমিত রয়েছে। গত ৬ অক্টোবর প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনেও যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিভিন্ন বাধার কথা উঠে এসেছে।
ইসরায়েল হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। অন্যদিকে গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও ট্রাম্পের নির্বাচনী অবস্থানের একমাত্র কারণ হিসেবে গাজা পরিস্থিতিকে চিহ্নিত করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েলে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। ওই হামলার সময় নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতা, গাজা যুদ্ধ পরিচালনা এবং সরকারের জবাবদিহি নিয়ে তিনি সমালোচনার মুখে রয়েছেন। অন্যদিকে তাঁর সমর্থকেরা নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তাঁর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন নেতানিয়াহু। ফলে নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরাসরি সমর্থন না পাওয়া তাৎপর্যপূর্ণ। তবে ট্রাম্পের এই অবস্থান ইসরায়েলের ভোটারদের সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং গাজা যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন নিয়েও ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে মতপার্থক্যের খবর রয়েছে। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প ইসরায়েলের নিরাপত্তা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
এ পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে, নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় নীতিকে আলাদা রাখার কোনো প্রবণতা ট্রাম্পের বক্তব্যে প্রতিফলিত হচ্ছে কি না। তবে তাঁর মন্তব্যকে ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন নীতির বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রমাণ হিসেবে দেখার মতো পর্যাপ্ত তথ্য এখনো নেই।
সব মিলিয়ে, নেতানিয়াহুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখেও তাঁর পুনর্নির্বাচনে সরাসরি সমর্থন না দিয়ে ট্রাম্প নির্বাচনী প্রশ্নে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। গাজা ও ইরান নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও ইসরায়েলের নিরাপত্তায় মার্কিন সমর্থনের অঙ্গীকার বহাল রয়েছে।
The post নেতানিয়াহুর পুনর্নির্বাচনে সমর্থন দিলেন না ট্রাম্প, ইসরায়েল নিয়ে কী বার্তা দিলেন appeared first on ভোরের চেতনা.
