সোহেল সরকার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সংবাদদাতা:-
ব্রাহ্মণবাড়িয়া গ্যাসের সংকট নিরসনে বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের আলোচনা। জেলা শহরের আবাসিক এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। বাসাবাড়িতে গ্যাসের সংযোগ থাকলেও অধিকাংশ সময় পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় স্বাভাবিকভাবে রান্নাবান্না করতে পারছেন না গ্রাহকরা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার বাসিন্দারা, বিশেষ করে গৃহিণীরা। বাধ্য হয়ে অনেক পরিবারকে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে উচ্চমূল্যে বোতলজাত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) কিনে রান্নার কাজ চালাতে হচ্ছে। এতে সংসারের নিয়মিত ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো পড়েছে বাড়তি আর্থিক চাপে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের চাপ কম থাকায় দিনের বড় একটি সময় চুলায় গ্যাস পাওয়া যায় না। কখনো গ্যাসের চাপ এতটাই কম থাকে যে, চুলা জ্বালানো গেলেও প্রয়োজনীয় তাপ পাওয়া যায় না। ফলে খাবার রান্না করতে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগছে। কোনো কোনো সময় রান্নার কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই বিকল্প ব্যবস্থার দিকে ছুটতে হচ্ছে পরিবারের সদস্যদের।
শহরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আবাসিক গ্যাস সংযোগ থাকার পরও নিয়মিত রান্নার জন্য এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে। এতে একদিকে গ্যাস বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়তি টাকা খরচ করে কিনতে হচ্ছে বিকল্প জ্বালানি। ফলে একই কাজে দ্বিগুণ ব্যয়ের বোঝা বহন করতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
ভুক্তভোগীরা জানান, বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ নেওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল সহজে ও তুলনামূলক কম খরচে রান্নাবান্নার সুবিধা পাওয়া। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের চাপ না থাকায় সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তাঁরা। প্রতিদিন সকালে নাশতা তৈরি, দুপুর ও রাতের খাবার রান্না সবকিছুতেই তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও শিশুদের সময়মতো খাবার প্রস্তুত করতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এদিকে বোতলজাত এলপিজি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ায় পরিবারের মাসিক খরচও বেড়ে যাচ্ছে। আয় সীমিত হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই এ বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। তাঁদের প্রশ্ন, নিয়মিত বিল পরিশোধ করার পরও যদি প্রয়োজনীয় গ্যাস না পাওয়া যায়, তাহলে বিকল্প জ্বালানির বাড়তি ব্যয় কেন বহন করতে হবে?
শহরের বিভিন্ন পাড়া, মহল্লার বাসিন্দারা দ্রুত গ্যাস সংকটের কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, আবাসিক গ্রাহকদের দুর্ভোগ লাঘবে গ্যাস সরবরাহব্যবস্থা পর্যালোচনা, লাইনে পর্যাপ্ত চাপ নিশ্চিত করা এবং সংকটের স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
সংকট নিরসনে জেলা পরিষদ প্রশাসকের উদ্যোগ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের আবাসিক গ্যাস সংকট নিরসনে গত ১২ অক্টোবর বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কর্মরত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। শহরের বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ না থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরে সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এ সমস্যার সমাধান হবে এমন প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা। তাঁদের দাবি, শুধু আলোচনা নয়, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে আবাসিক গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট গ্যাস কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেবে। এতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন গ্রাহকেরা এবং অপ্রয়োজনীয় বাড়তি ব্যয় থেকেও রেহাই মিলবে।
এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট কত দ্রুত নিরসন হয় এবং আবাসিক গ্রাহকেরা কবে থেকে স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ ফিরে পান।
The post ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে গ্যাস সংকট চরমে, ভোগান্তিতে মাসের পর মাস হাজারো হাজার আবাসিক গ্রাহক পরিবার appeared first on সকালের খবর ২৪.
