মুন্সীগঞ্জের পঞ্চসার ইউনিয়নে আইডিয়াল টেক্সটাইল মিলের বিরুদ্ধে ধলেশ্বরী নদীতে কালো বর্জ্য ফেলার অভিযোগ উঠেছে; প্রতিষ্ঠানটি বর্জ্য ফেলার অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
একসময় যে ধলেশ্বরী নদী ছিল এই জনপদের প্রাণ, মানুষের জীবন-জীবিকা ও প্রকৃতির অন্যতম আশ্রয়স্থল, সেই নদীই আজ দূষণের আশঙ্কায় বিপন্ন। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের পশ্চিম মুক্তারপুরে একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ডাইংয়ের কালো বর্জ্য সরাসরি ধলেশ্বরী নদীতে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। নদীর পানিতে এভাবে বর্জ্য মিশতে থাকলে জলজ প্রাণী, পরিবেশ ও নদীনির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
গত ২০ অক্টোবর সকাল ৯টায় মুক্তারপুর সেতুর পশ্চিম পাশে সরেজমিনে গিয়ে আইডিয়াল টেক্সটাইল মিল লিমিটেডের দিক থেকে কালো বর্জ্য ধলেশ্বরী নদীতে পড়তে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদকের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত এভাবে বর্জ্য নদীতে ফেলা হলে একসময়ের প্রাণবন্ত ধলেশ্বরী ধীরে ধীরে তার স্বাভাবিক পরিবেশ হারাবে। নদীর পানি দূষিত হলে মাছসহ জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে। পাশাপাশি নদীর ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবন-জীবিকা ও জনস্বাস্থ্য নিয়েও দেখা দিতে পারে নানা উদ্বেগ।
নদী কি শুধু বর্জ্য ফেলার স্থান? এই নদীর পানিতে রয়েছে প্রকৃতির প্রাণ, জীববৈচিত্র্যের আশ্রয় এবং মানুষের বেঁচে থাকার নানা উপকরণ। শিল্পের বিকাশ অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু সেই বিকাশের মূল্য যদি দিতে হয় নদী ও পরিবেশকে ধ্বংস করে, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কী রেখে যাচ্ছি আমরা—এ প্রশ্ন এখন স্থানীয় সচেতন মহলের।
শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বক্তব্য
এ বিষয়ে আইডিয়াল টেক্সটাইল মিল লিমিটেডের মাস্টার মাইদুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তাঁদের ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট রয়েছে এবং তাঁদের প্রতিষ্ঠানের কোনো বিষাক্ত বর্জ্য নদীতে ফেলা হয় না।
তবে সরেজমিনে দেখা বর্জ্য নির্গমনের বিষয়টি জানিয়ে প্রতিবেদকের কাছে ছবি রয়েছে বলা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পদক্ষেপের আশ্বাস
এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমানের সঙ্গে ছবি পাঠিয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ছবি দেখে ইতিপূর্বে পরিদর্শন করে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাব টেস্টের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এখন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, শুধু আশ্বাস নয়—দ্রুত সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে নদীতে বর্জ্য নির্গমনের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা হবে। প্রয়োজনে বর্জ্যের নমুনা পরীক্ষা করে দূষণের মাত্রা নির্ধারণ এবং আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ধলেশ্বরীকে বাঁচানো মানে শুধু একটি নদীকে বাঁচানো নয়; বাঁচানো এই অঞ্চলের প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের ভবিষ্যৎ। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন যেমন জরুরি, তেমনি পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বও অনস্বীকার্য। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে ধলেশ্বরীকে দূষণমুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
